
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি জমি দখলের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৪ নম্বর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জল হোসেন (৩২)। তাঁর অভিযোগ, গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা দখলের বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় আসামিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গৌরীপুরের কলতাপাড়া বড়বাড়ি এলাকায় এক সাক্ষীর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ২ ও ৩ নম্বর আসামির বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। বাদীর অভিযোগ, মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এতে তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়। এ ছাড়া লাঠি, রড, কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। এ সময় তাঁর গলায় থাকা আনুমানিক এক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন, পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং হাতে থাকা আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাদীকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ঘটনার সাক্ষী ও ভিডিওচিত্র তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৬৪, ৫০৬ (১১) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিকের ওপর নির্যাতনের এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন
আপনার মতামত লিখুন :