রাবিপ্রবিতে উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা, বিজয়ী প্রত্যেক দল পাবে এক লাখ টাকা | Daily AjKaler Kontho

রাবিপ্রবিতে উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা, বিজয়ী প্রত্যেক দল পাবে এক লাখ টাকা


আহমদ বিলাল খান, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ন
রাবিপ্রবিতে উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা, বিজয়ী প্রত্যেক দল পাবে এক লাখ টাকা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নতুন উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এ লক্ষ্যে আয়োজিত উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রত্যেক দল তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর সভাকক্ষে ব্র্যাকের সামাজিক উদ্ভাবন গবেষণাগারের উদ্যোগে ফ্রুগাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৭-এর প্রচার ও অংশগ্রহণ উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দল গঠন করে উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি তুলে ধরতে পারবেন।

তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছ আহরণ, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে মৎস্যজীবীদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা, হালদা নদীর মা মাছের সুরক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম তথ্য সরবরাহ এবং পরিবেশ ও স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের ব্র্যাকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করায় আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সহ-উপাচার্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাকের সামাজিক উদ্ভাবন গবেষণাগারের উদ্ভাবন বিভাগের প্রধান সামিন নওয়ার কাশমী প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৃষি ও জীবিকা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, নগরজীবন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলোর সমাধানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প জমা দিতে হবে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিন থেকে পাঁচ সদস্যের দল গঠন করে আগামী ২৫ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রকল্প জমা দিতে হবে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রত্যেক দল তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি উপদেষ্টা মো. মোকাররম হোসেন পার্বত্য চট্টগ্রামে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি রাঙ্গামাটির প্রত্যন্ত উপজেলাগুলোতে ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বিশেষ করে তামাক চাষের পরিবর্তে কৃষকদের আলু ও ভুট্টা চাষে উৎসাহিত করা এবং মৎস্য চাষের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সফলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম তথ্য সরবরাহ, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, আইসিটি সেলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. তানজিম মাহমুদ, ব্র্যাকের কৌশলগত সম্পৃক্ততা বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক তাবাসসুম বিনতে নওশাদ, উদ্ভাবন ফোরাম ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা বিভাগের বিশেষজ্ঞ ফারহানা জিনিয়া এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল সাফা সাদিয়া ঐশ্বরীসহ ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি