যবিপ্রবির কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত | Daily AjKaler Kontho

যবিপ্রবির কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত


ইমরান হোসেন, যবিপ্রবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ন
যবিপ্রবির কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়ইতলা প্রাঙ্গণে কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে পিলো পাসিং, হাঁড়িভাঙা, বাস্কেটে বল নিক্ষেপ ও গোলপোস্টে বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আলফাজ হোসেন আরবি।

অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শাহেদুর রহমান, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শারমিন সুরাইয়া, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ এবং ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মো. নাভিদ আনজুম। এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক।

অনুষ্ঠানে পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন, ভালোবাসা ও ঐক্য। সিনিয়রদের উচিত জুনিয়রদের প্রতি আন্তরিক হওয়া এবং তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ককে শুধু পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পারিবারিক বন্ধনে রূপ দিতে হবে। ছোটখাটো ভুল-বোঝাবুঝি এড়িয়ে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি সবার সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতা বজায় থাকলে কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে বলে আমি আশা করি।

ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শারমিন সুরাইয়া বলেন, তোমরা যারা এ বছর ভর্তি হয়েছো, প্রথম থেকে পড়াশোনা ও ভালো ফলাফলের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া যারা অধ্যয়নরত আছো সবাই নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করো। যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী, তাদের এখন থেকে আইইএলটিএস সহ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, দেশে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি শুরু করো। সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মো. নাভিদ আনজুম বলেন, কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। একই জেলার মানুষ হিসেবে এ সংগঠনের মাধ্যমে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এ বছর যারা ভর্তি হয়েছো সংগঠনের প্রতি আন্তরিক থাকার পাশাপাশি সিনিয়রদের কাছ থেকে ভালো কিছু শেখার চেষ্টা করবা বলে আশা করি। পড়াশোনার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সংগঠনের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখার দায়িত্বও তোমাদের নিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন বিভাগ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।