বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় গোবিপ্রবির দুই শিক্ষকসহ তিন শিক্ষার্থী | Daily AjKaler Kontho

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় গোবিপ্রবির দুই শিক্ষকসহ তিন শিক্ষার্থী


গোবিপ্রবি প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১০, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ন
বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় গোবিপ্রবির দুই শিক্ষকসহ তিন শিক্ষার্থী

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) দুই শিক্ষক ও ফার্মেসি বিভাগের তিন শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এ তালিকায় তাঁদের নাম উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এ তালিকায় বাংলাদেশের মোট ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গোবিপ্রবির দুই শিক্ষক হলেন ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপঙ্কর কুমার। অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগের তিন শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসেন, মো. শিমুল ভূঁইয়া ও রায়হান চৌধুরীও এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

তালিকায় ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলামের বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থান তৃতীয় এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ৫ হাজার ৪৯৭। তাঁর গবেষণার উপক্ষেত্র মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকিউলার কেমিস্ট্রি। অন্যদিকে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপঙ্কর কুমারের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৪। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং উপক্ষেত্র ফলিত পদার্থবিজ্ঞান। এ উপক্ষেত্রে তাঁর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ৪ হাজার ২৬৪।

তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসেনের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫। তাঁর গবেষণার উপক্ষেত্র ফার্মাকোলজি অ্যান্ড ফার্মেসি। এ উপক্ষেত্রে তাঁর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ২ হাজার ৭৭৮।

ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শিমুল ভূঁইয়ার বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪৯। তাঁর গবেষণার উপক্ষেত্র মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকিউলার কেমিস্ট্রি। এ উপক্ষেত্রে তাঁর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ২ হাজার ৫৭০।

এ ছাড়া একই বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান চৌধুরীর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ১৪ লাখ ১২ হাজার ৩৮০। তাঁর গবেষণার উপক্ষেত্রও মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকিউলার কেমিস্ট্রি। এ উপক্ষেত্রে তাঁর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ১১ হাজার ৩৪৫।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়ে ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শিমুল ভূঁইয়া বলেন, “আন্তর্জাতিক গবেষক র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়া নিঃসন্দেহে সম্মান ও আনন্দের। ২০২৫ সাল থেকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া আমার সাত বছরের নিরলস পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসার স্বীকৃতি।

গবেষণার পথচলায় দেশ-বিদেশের শতাধিক গবেষকের সহযোগিতা পেয়েছি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ ড. মো. তরিকুল ইসলাম স্যারের প্রতি, যাঁর সঙ্গে নিয়মিত গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে গবেষণার তহবিল ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আমি বিশ্বাস করি, তাৎক্ষণিক ফলাফল না এলেও প্রতিটি গবেষণা ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ভিত্তি হতে পারে।

আমার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ড্রাগ ডিসকভারি বা নতুন ওষুধ আবিষ্কার। বিশেষ করে প্রাকৃতিক উৎস থেকে আলঝেইমারস ও পারকিনসনসের মতো নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের কার্যকর ওষুধ আবিষ্কারে অবদান রাখতে চাই। আমার স্বপ্ন, বাংলাদেশ একদিন নিজস্ব উদ্ভাবিত নতুন ওষুধের জন্যও বিশ্বে পরিচিত হবে।

এই স্বীকৃতিকে আমি গন্তব্য নয়, বরং আরও দায়িত্বশীলভাবে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি। আমার কাছে গবেষণার প্রকৃত সার্থকতা র‍্যাঙ্কিং বা পুরস্কারে নয়, বরং মানবকল্যাণে অবদানের মধ্যে।”