ঢাকা মেডিকেলের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাত এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার | Daily AjKaler Kontho

ঢাকা মেডিকেলের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাত এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার


আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ন
ঢাকা মেডিকেলের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাত এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

আনুমানিক ২৮ বছর বয়সি ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তাক্ত একটি কালো স্টিলের ফল কাটার ছুরি এবং আশপাশে রক্তের দাগ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
‎
‎সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
‎
‎ঢামেক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ নারী বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভেতরের কক্ষগুলোর দরজায় নক করে থাকা ব্যক্তিদের বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন। ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় নক করার পর দীর্ঘ সময়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়।
‎
‎পরে সঙ্গে থাকা আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহযোগিতায় দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে দরজা খুললে তারা ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিষয়টি আনসার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে শাহবাগ থানায় খবর দেয়।
‎
‎পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বলেন, তিনি ঢাকা মেডিকেলে দৈনিক ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মহিলা বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে একটি কক্ষে কয়েকবার নক করেন। কিন্তু দরজা না খোলায় সন্দেহ হয়। পরে তিনি, রাসেল ও কামাল—তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বিষয়টি দেখতে যান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা খুলে তারা ওই নারীকে দেখতে পান। এরপর তারা আনসার সদস্য ও সর্দারকে বিষয়টি জানান।
‎
‎এদিকে, একই দিন ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তাক্ত একটি কালো স্টিলের ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল আনুমানিক ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী পেল্লী সন্তোষ ওই ছুরিটি দেখতে পান।
‎
‎সন্তোষ জানান, ছুরিটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই এলাকার মেঝে পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখেন।
‎
‎তিনি বলেন, ঘটনার চার-পাঁচ ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, ১১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশে পুরুষ ও মহিলা টয়লেটের একটি কক্ষে একজনকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে আলোচনা হচ্ছে। তবে নারীটির মৃত্যুর ঘটনা তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেননি।
‎
‎হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি একজন নারীকে বাথরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার কথা শুনতে পান। এরপর নিজের কক্ষের পাশে থাকা আনসার সদস্যকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং তিনি আগে কোনো সন্দেহজনক ঘটনা দেখেছেন কি না জানতে চান।
‎
‎ডা. শায়লা ফেরদৌস বলেন, প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় নম্বর গেটের বাইরে নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল ৮টার আগের দিকে আনসার সদস্যদের ডিউটি পরিবর্তন হয়। তখন দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য হাসপাতালের অফিস স্টাফ ও ক্লিনার সন্তোষকে ডেকে কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জায়গাটি পরিষ্কার করতে বলেন।
‎
‎তিনি জানান, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত ছিল না। হাসপাতালে অনেক রোগী থাকায় বিভিন্ন সময় মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ কারণে তারা ধারণা করেছিলেন, কোনো রোগী নিজের শরীরে আঘাত করার কারণে কিংবা কোনো ঝগড়াঝাঁটির ঘটনায় রক্ত পড়ে থাকতে পারে। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী সন্তোষ গ্লো-টেক্স সলিউশন দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করেন এবং ছুরিটি নিজের কাছে রাখেন।

‎সহকারী পরিচালক আরও জানান, কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনেও রক্তের দাগ ছিল। আশপাশে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্নও পাওয়া যায়। সেগুলোও পরিষ্কার করা হয়েছে।
‎
‎হাসপাতালের ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
‎
‎ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।
‎
‎শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে আসছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎ওসি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের আলামত সংগ্রহ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্টরা।

আজকালের কন্ঠ/আর এস