উলিপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন | Daily AjKaler Kontho

উলিপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন


কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৪, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ন
উলিপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়া বুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব আঠারোপাইকা এলাকার বালাজান ব্রিজ সুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শ্যামলের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী আতুশী রাণীকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে এনামুল হক ক্বারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২৬ স্থানীয় সুধী সমাজ ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই রাতে শ্যামল নদীতে মাছ শিকার করতে গেলে এই সুযোগে এনামুল হক ২৬ শ্যামলের বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী আতুশী রাণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয়রা এনামুলকে হাতেনাতে আটক করেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়ভাবে বিচার করার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিচার আয়োজন করা হলে এনামুল হক সেই বিচার অমান্য করেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এরপর শ্যামলের স্ত্রী আতুশী রাণীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে এনামুলের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর আতুশী রাণীর স্বামী শ্যামল ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উলিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তবে সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে থানায় এজাহার নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী মো. সবুজ মিয়া বলেন, এনামুলের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। শ্যামলের স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে অপহরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী মিলে বিচারের আয়োজন করলে এনামুল সেই বিচার অমান্য করে। থানায় এজাহার করতে গেলে থানা এজাহার নেয়নি।

এলাকাবাসী মো. আতিকুর রহমান বলেন, এনামুল জোরপূর্বক শ্যামলের স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের সময় এনামুলকে এলাকাবাসী হাতেনাতে আটক করে। পরে তাকে স্থানীয় বিচারের আওতায় আনা হলে সে বিচার অমান্য করে আতুশী রাণীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। আমরা এলাকাবাসী এ ঘটনার বিচার চাই।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ছদ্মনাম সন্তোষ সরকার বলেন, শ্যামলের বিয়ের জন্য যখন আতুশী রাণীকে দেখতে যাওয়া হয়, তখন এনামুলও শ্যামলের সঙ্গে গিয়েছিল। বিয়ের পর এনামুলের সঙ্গে শ্যামলের স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার জেরে ২৮ জুলাই রাতে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে এনামুল হক শ্যামলের বাড়িতে প্রবেশ করে আতুশী রাণীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হলে এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে আটক করে। পরে বিচারের জন্য এলাকাবাসী দায়িত্ব নেয়। এরপর বিচার অনুষ্ঠিত হলে এনামুল সেই বিচার অমান্য করে শ্যামলের স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

তবে বর্তমানে আতুশী রাণী তার বাবার বাড়িতে রয়েছেন বলে জানান ওই ব্যক্তি। তিনি আরও দাবি করেন, আতুশী রাণী কয়েকজনকে জানিয়েছেন যে তিনি আর সেখানে আসবেন না। এনামুল আতুশী রাণী ও তার পরিবারের সঙ্গে টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আতুশী রাণীর স্বামী শ্যামল বলেন, ২৮ জুলাই রাতে আমি নদীতে মাছ শিকার করতে গেলে এনামুল আমার বাসায় ঢুকে আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে আতুশী রাণীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিকটিম নিজে থানায় না এসে এলাকাবাসী ও তার স্বামী সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এরপর থানা থেকে তাদের ভিকটিমকে থানায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য তাদের জানানো হয়েছে। ভিকটিম থানায় আসামাত্রই এজাহার নেওয়া হবে। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর মেডিকেল পরীক্ষা করানোর প্রক্রিয়া রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি