
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল কেবল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; এটি নদী, সাগর, উর্বর পলি, সবুজ শস্যক্ষেত, সংগ্রাম এবং অফুরন্ত সম্ভাবনার এক জীবন্ত ভূখণ্ড। কীর্তনখোলা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, বিষখালী, সুগন্ধা ও পায়রার জলধারা যেমন এই জনপদকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য, তেমনি এখানকার মানুষের শ্রম, মেধা ও সহনশীলতা যুগের পর যুগ দেশের কৃষি, মৎস্য, নৌ-বাণিজ্য ও উপকূলীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। বাংলার শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল প্রকৃতির আশীর্বাদে সমৃদ্ধ হলেও উন্নয়নের অনেক মৌলিক সূচকে এখনো তার সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি।
বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি মানুষের বসবাস। কৃষি, মৎস্য, নীল অর্থনীতি, পর্যটন এবং সমুদ্রভিত্তিক বাণিজ্যে এ অঞ্চলের সম্ভাবনা দেশের অন্যতম। ধান, ইলিশ, পেয়ারা, সুপারি, নারিকেল এবং কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা দক্ষিণাঞ্চলকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও সরাসরি রেল যোগাযোগ, বৃহৎ শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, গ্যাস সরবরাহ, উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃহৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ফলে উন্নয়নের সম্ভাবনা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি দৃশ্যমান ব্যবধান রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের বরিশাল সফর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশা, এই সফরকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ, বরিশাল–ভোলা সেতু, জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে বরিশালের সংযোগ, ঝালকাঠিতে একটি বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পায়রা সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলে সরবরাহ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কুয়াকাটার আন্তর্জাতিক পর্যটন উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী বৃহৎ বিনিয়োগের মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো নতুন গুরুত্ব পাবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে আজ পর্যন্ত: বিএনপির রাজনীতিতে বরিশালের অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বরিশাল বিভাগ সব সময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জনপদ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দলটির সাংগঠনিক শক্তি, গণভিত্তি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছেন। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরগুনার শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিএনপির সংগঠন বিস্তৃত হয়েছে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, এক-এগারোর রাজনৈতিক সংকট এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দক্ষিণাঞ্চলের নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এ অঞ্চলের অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাবরণ করেছেন, মামলা-মোকদ্দমার মুখোমুখি হয়েছেন এবং রাজনৈতিক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ফলে বরিশাল শুধু বিএনপির একটি সাংগঠনিক অঞ্চল নয়; বরং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের এই আস্থা ও অংশগ্রহণই বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে সুসংহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
একটি সফর, নতুন প্রত্যাশার সূচনা : ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়; সেগুলো ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারণ করে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে এই সফরও তেমনই এক প্রতীকী মুহূর্ত। প্রশাসনিক কর্মসূচির বাইরেও এটি উন্নয়ন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও সফরসঙ্গী মো. আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশালের মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর অন্যতম। বৃক্ষরোপণ, খাল পুনরুদ্ধার, সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শন, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক বৈঠক—সব মিলিয়ে এই সফর সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি :
বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দক্ষিণাঞ্চলেও বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিস্তার সময়ের দাবি। ঝালকাঠিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগই বাড়াবে না; এটি গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
অবকাঠামোই হবে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি :
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক একটি গেম-চেঞ্জার প্রকল্প হতে পারে। পদ্মা সেতুর পূর্ণ সুফল পেতে এই মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা জরুরি। একইভাবে বরিশাল–ভোলা সেতু শুধু দুটি জেলার সংযোগ নয়; এটি ভোলার গ্যাসসম্পদ, বরিশালের শিল্পায়ন এবং সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন গতিশীলতা দিতে পারে। জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে বরিশালের সংযোগও এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি ন্যায্য উন্নয়নের দাবি। রেলপথ চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিল্পায়নের নতুন ভিত্তি তৈরি হবে এবং দক্ষিণাঞ্চল জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হবে।
পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা: সম্ভাবনার দুই স্তম্ভ : পায়রা সমুদ্রবন্দর দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সক্ষমতা রাখে। তবে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিক হাব, আধুনিক সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। অন্যদিকে কুয়াকাটা বিশ্বের বিরল সমুদ্রসৈকতগুলোর একটি, যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কুয়াকাটাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।
কর্মসংস্থানই উন্নয়নের প্রকৃত পরিচয় : কোনো অঞ্চলের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার মানুষ নিজ অঞ্চলে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। আজও দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ জীবিকার সন্ধানে রাজধানীমুখী। রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল, কৃষি ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, নীল অর্থনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নতুন বিনিয়োগ এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে পারে।
নদী, প্রকৃতি ও জলবায়ুর সঙ্গে সমন্বিত উন্নয়ন : দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে নদীভাঙন প্রতিরোধ, খাল পুনঃখনন, উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং জলবায়ু অভিযোজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করেই এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অভিন্ন প্রত্যাশা : আজ বরিশালের কৃষক, জেলে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দাবির ভাষা প্রায় অভিন্ন। তারা চান পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত বৈষম্যের অবসান। তাদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, বরিশাল–ভোলা সেতু, রেল সংযোগ, গ্যাস সরবরাহ, পায়রা সমুদ্রবন্দরভিত্তিক শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা এবং কুয়াকাটার আন্তর্জাতিক পর্যটন উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের : রাজনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান মনে করেন, এই সফর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাঁদের মতে, শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও শিল্পায়নভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনাই দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।
শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমান: দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ধারাবাহিক অঙ্গীকার : দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের প্রসঙ্গ এলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কর্মসূচিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর সময়ে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়। পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপসহীন নেত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ, উপকূলীয় অবকাঠামো, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
পরিশেষে, দক্ষিণাঞ্চল আজ আর সহানুভূতির নয়, সম্ভাবনার ভাষায় কথা বলতে চায়। নদী, সমুদ্র, কৃষি, নীল অর্থনীতি, বন্দর, পর্যটন এবং পরিশ্রমী মানুষের এই জনপদ সঠিক পরিকল্পনা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব পেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়কের উন্নয়ন, বরিশাল–ভোলা সেতু, রেল সংযোগ, ভোলার গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার, পায়রা সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, কুয়াকাটার আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশ এবং ঝালকাঠিতে একটি বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচিত হতে পারে এমন প্রত্যাশাই আজ বরিশাল বিভাগের লাখো মানুষের কণ্ঠে সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। বরিশালবাসীর প্রত্যাশা, জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারুণ্যের অহংকার, দেশনায়ক তারেক রহমানের এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকবে না; বরং এটি হবে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের, পরিকল্পনা থেকে অর্জনের এবং দক্ষিণাঞ্চলের নতুন উন্নয়নযাত্রার সূচনা। কারণ ইতিহাসের কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়—সেগুলো একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে থাকে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আজ সেই নতুন ভোরের অপেক্ষায়।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :