মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়তে ওসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, মসজিদে মসজিদে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা | Daily AjKaler Kontho

মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়তে ওসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, মসজিদে মসজিদে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা


কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ন
মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়তে ওসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, মসজিদে মসজিদে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা

কুমিল্লার মুরাদনগরকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি প্রতি জুমার দিন উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। একই সঙ্গে মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের ছালিয়াকান্দি (সৈয়দ বাড়ি) শাহ সূফী সৈয়দ মুরাদ আলী পীর সাহেব (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে মাদকবিরোধী বার্তা দেন ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

জুমার নামাজের আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি বলেন, “ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) ঘোষিত মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে গোপনীয়তা বজায় রেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তুলতে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন ওসি এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ইউনিয়নভিত্তিক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও জানান।

এ সময় ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মুরাদনগরে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। ধারাবাহিক এসব অভিযানের ফলে এলাকায় মাদকের বিস্তার আগের তুলনায় কিছুটা হলেও কমেছে বলে মনে করছেন তারা।

এলাকাবাসীর মতে, প্রতি জুমার দিন উপজেলার একেকটি মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসচেতনতা সৃষ্টির এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ার প্রচেষ্টাও বেগবান হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি