
কুমিল্লার -র ইউসুফপুর ইউনিয়নের এগারগ্রাম বাজারে অবস্থিত “জারা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ ভয়াবহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার (২৪ মে) -এর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন কমিটি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে এসব অনিয়মের সত্যতা পায়।
পরিদর্শনকালে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির কোনো বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত করা হয়। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কোনো সনদও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পরিদর্শন কমিটি জানায়, প্রতিষ্ঠানটি কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। একজন চিকিৎসক সহকারী ও তার স্ত্রী মিলে কেন্দ্রটি পরিচালনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং তার স্ত্রী ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করলেও তাদের সনদপত্র ভুয়া।
পরিদর্শনে স্বাস্থ্যসেবার অত্যন্ত নাজুক অবস্থা দেখা যায়। এক্স-রে রুমে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, প্যাথলজি ল্যাবে এসি না থাকা, নিম্নমানের রিএজেন্ট ব্যবহার এবং রেফ্রিজারেটরে খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া কোনো কালার কোডেড বর্জ্য বিন ছিল না এবং রক্তমাখা সিরিঞ্জ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ছাড়া নরমাল ডেলিভারি পরিচালনার নিয়ম না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিতে এ ধরনের কোনো জনবল পাওয়া যায়নি। অথচ নিয়মিত নরমাল ডেলিভারি করানোর অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
কিছুদিন আগে এক প্রসূতির নরমাল ডেলিভারির পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর অভিযোগও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এসেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর “জারা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার” সিলগালা করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :