
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তৃতীয় লিঙ্গের কিছু ব্যক্তির বেপরোয়া আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অংশ জোরপূর্বক অর্থ আদায়, অশোভন আচরণ এবং প্রকাশ্যে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
একজন ভুক্তভোগী জানান, “টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে তারা আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। আমার মেয়ের বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। আমি ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা অশালীন আচরণ করে, যা প্রকাশযোগ্য নয়। এতে আমার স্বামী ও মেয়ে আহত হয়। এখন আমি কার কাছে প্রতিকার চাইবো, বুঝতে পারছি না।”
এ ধরনের ঘটনার কারণে নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যরা চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, যা সামাজিকভাবে বিব্রতকর ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পারিবারিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠছে জনমনে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে রায়পুর থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিন মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে উনার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রায়পুরের এক সচেতন নাগরিক বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে সমাজে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে। এতে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
সচেতন মহল বলছে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, সামাজিক সচেতনতা এবং পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :