মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় বাড়ছে নদীভাঙন: পরিবেশমন্ত্রী | Daily AjKaler Kontho

মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় বাড়ছে নদীভাঙন: পরিবেশমন্ত্রী


শাহাদাত হোসেন ,নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: প্রকাশের সময় : মার্চ ১০, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ন
মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় বাড়ছে নদীভাঙন: পরিবেশমন্ত্রী

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ায় নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, রেগুলেটরটি না থাকায় বর্তমানে নদীর দুই দিকেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নতুন রেগুলেটর ও মুছাপুর ক্লোজারের কাজ শুরু করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ–১) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি পুরো নোয়াখালীর মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত। প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে উপকূলীয় এলাকার মানুষ বেঁচে আছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। এক কৃষকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নোয়াখালীকে বাঁচাতে হলে মুছাপুর রেগুলেটর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্যাহ, ঢাকা (পূর্ব অঞ্চল) বাপাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ এবং নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশারেফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সালসহ স্থানীয় নেতারা। এতে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম সিকদার।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর এলাকায় অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

ভাঙন প্রতিরোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ওই স্থানে আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। একনেক সভায় অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ২০০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপকূলে নদীভাঙন ও পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাশন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৩ ভেন্টের মুছাপুর রেগুলেটরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রেগুলেটরটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৭৫৬ দশমিক ১৫ ঘনমিটার।

স্থানীয়দের আশা, নতুন রেগুলেটর নির্মাণ হলে কোম্পানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস/এস