
অবৈধ ইটভাটার জন্য কৃষিজমির টপসয়েল বহনে ব্যবহৃত মাটি বহনকারী ট্রলি (বলিট্রাক) চলাচলে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীর ওপর হামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রামগতি উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরমেহার গ্রামে সচেতন মালন মিয়া সমাজের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রব দুলাল, সেলিম মুহুরি, সাইফুল ডুবাই, সাকিব রাজ, সূজন আপন, বাদল, আবদুল আহাদ, জিহাদ, শাহারাজ, ফিরন, ভাসানি, সিরাজসহ শত শত নারী-পুরুষ।
বক্তারা জানান, চলতি মৌসুমের গত তিন মাস ধরে স্থানীয় ‘মেসার্স হাওলাদার ব্রিকস’ নামক একটি অবৈধ ইটভাটার জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি ট্রলিতে করে কৃষিজমি থেকে মাটি আনা-নেওয়া হচ্ছে। এতে মকবুল আহমদ সড়কসহ এলাকার তিনটি গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, নিরুপায় হয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মাটি বহনকারী ট্রলির চলাচল বন্ধ করতে সড়কে গাছের একাধিক খুঁটি স্থাপন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইটভাটার মালিক আবদুল মালেক, তার দুই ছেলে আতিক ও আজিজের নেতৃত্বে ইউছুপ, মন্নান মাঝি, আইউব, আবদুল্যাহ, মামুন, মাজেদ, সাইমুন, শাহাদাতসহ ইটভাটার শ্রমিকরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে বাদল, ফিরন, আপন, সুলতানা বেগম, জরিনা বেগম, জিসানসহ বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ আহত হন।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স হাওলাদার ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী আবদুল মালেকের ছেলে আতিক বলেন, “রাস্তায় গাছের খুঁটি স্থাপন করায় আমরা সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে গিয়েছিলাম। হামলা বা হুমকির কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনগণের সমস্যার কথা বিবেচনা করে দুটি ইটভাটার মধ্যে একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :