আগৈলঝাড়ায় পানের দাম কমে বিপর্যস্ত চাষীরা | Daily AjKaler Kontho

আগৈলঝাড়ায় পানের দাম কমে বিপর্যস্ত চাষীরা


আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ৭:০৪ অপরাহ্ন
আগৈলঝাড়ায় পানের দাম কমে বিপর্যস্ত চাষীরা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় হঠাৎ করেই পানের বাজারে দরপতন দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দামের এ পতনে উপজেলার হাজারো পানচাষী আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। একসময় যেখানে পানচাষ ছিল চাষীদের লাভজনক পেশা, এখন তা পরিণত হয়েছে লোকসানের খাতে। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষীদের জীবন-জীবিকা সংকটে পড়েছে।

উপজেলার রাজিহার,বাশাইল, বাকাল ও গৈলা ইউনিয়নের বিস্তৃত অঞ্চলে পানের বরজ স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সারা বছরই পান উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন চাষীরা। তবে চলতি মৌসুমে সেই চিরচেনা চিত্রে নেমে এসেছে কিছুটা ক্ষতি।

চাষীরা জানান, কয়েক বছর ধরে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে—শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, বাঁশ, দড়ি ও বরজ রক্ষণাবেক্ষণের সবকিছুর দাম বেড়েছে বহুগুণ। অথচ উৎপাদিত পানের দাম কমে যাওয়ায় খরচটুকুও উঠছে না। আগে যেখানে প্রতি পোন পান বিক্রি হতো ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এতে অনেক চাষীর পুঁজি ডুবছে, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন অনেকে।

পানচাষী শহীদ সিকদার বলেন,” এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজার ভেঙে পড়ার সব আনন্দ মাটিতে মিশে গেছে। এভাবে ক্ষতির পর ক্ষতি হলে সাধারণ চাষীদের জন্য চাষ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।”গৈলা ইউনিয়নের পান চাষিরা বলেন, ” বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়। এ দামে বিক্রি করলে শুধু ক্ষতিই গুনতে হচ্ছে।সরকারি কোনো সহায়তা না পেলে আমাদের বাঁচার পথ থাকবে না। ”

চাষীদের বর্তমান সংকট বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় বলেন,” চাষিরা দামের সংকটে পড়েছে এটা সত্য আমরা বাজার পরিস্থিতি নজরে রাখছি এবং চাষীদের যাতে প্রাপ্য মূল্য পান সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন,আগৈলঝাড়ায় পানের রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল নষ্ট হয়েছে। চাষীদের সহায়তার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। কৃষি অফিসারের সঙ্গে সমন্নয় করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ ও হঠাৎ রপ্তানি কমে যাওয়া—এই দুই কারণে দামের এমন পতন হয়েছে। তবে তাদের আশা, শিগগিরই আবার বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে।

বর্তমান দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা। যেসব পরিবার পুরোপুরি পানের ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।এ অবস্থায় আগৈলঝাড়ার পানচাষীরা সরকারের জরুরি সহায়তা, রপ্তানি বাজার পুনরুজ্জীবন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগের আশায় পথ চেয়ে আছেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি