
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার দিঘইর গ্রামে এক নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও গহনা লুটের অভিযোগ উঠেছে চার যুবকসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ফুল কুমারী (৪৬), স্বামী করনেলিউস, দিঘইর গ্রামের বাসিন্দা, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার দিঘইর গ্রামে ফুল কুমারীর বাড়িতে গিয়ে চার যুবকসহ ১০-১২ জনের একটি দল বে-আইনি জনতা হিসেবে জোরপূর্বক প্রবেশ করে।
অভিযুক্তরা হলো—
১. মোঃ নয়ন (২৩), পিতা- আজিমুদ্দিন, সাং- কুশমাইল;
২. মোঃ নিসান (২২), পিতা- গুলজার হোসেন, সাং- চরগোবিন্দপুর;
৩. মোঃ হৃদয় হাসান (২১), পিতা- ময়লাল;
৪. মোঃ কামরুল ইসলাম (২০), পিতা- ইউসুব আলী, সাং- সরাবাড়িয়া — সকলেই বড়াইগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী। তারা এলাকায় নেশা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই রাতে তারা দলবদ্ধ হয়ে ফুল কুমারীর বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলে। তিনি না খুললে তারা হুমকি দেয়— “দরজা না খুললে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হবে।” প্রাণ ভয়ে ফুল কুমারী দরজা খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। কোনো পুরুষ না পেয়ে অভিযুক্ত নয়ন বিছানার তোষকের নিচে রাখা ৫,০০০ টাকা নিয়ে নেয়, আর নিসান তার গলা থেকে ১০ আনা ওজনের সোনার মালা (মূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা) ছিঁড়ে নেয়।
পরে যাওয়ার সময় তারা ফুল কুমারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করে।
ঘটনার সময় আশপাশের বাসিন্দা জাকির হোসেন (৫২) ও সেলিম (৩৮)সহ কয়েকজন বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে পারিবারিক পরামর্শ শেষে থানায় অভিযোগ করেন ফুল কুমারী।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :