
লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চলছে চরম অনিয়ম ও অরাজকতা। অবসরে যাওয়ার বছর কয়েক পরও দুই সাবেক কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করছেন, আর সদর হাসপাতালের আয়া ১১ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন স্টোনোগ্রাফার হিসেবে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত দুই প্রধান সহকারী হারুন অর রশিদ ও জাহিদুল হক আগের মতোই বসে কাজ করছেন। এমনকি তারা আগের চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করে অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হারুন অর রশিদ ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি এবং জাহিদুল হক ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবসরে যান (পিআরএল)। কিন্তু অবসরের ৮ বছর ৯ মাস ও ২ বছর ১০ মাস পার হলেও তারা এখনও অফিস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, অন্য জেলা থেকে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন হলেও তাদের প্রভাবের কারণে কেউ যোগদান করতে পারেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। যারা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখেন। এভাবেই বছরের পর বছর অফিসে অবস্থান করছেন এই দুই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে সদর হাসপাতালে আয়ার পদে কর্মরত রুনা আক্তার গত ১১ বছর ধরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কাজ করছেন স্টোনোগ্রাফার হিসেবে। অথচ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এখনো ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় জনবলও পূর্ণ নয়।
আয়া রুনা আক্তার বলেন, “আমি ২০১০ সালে যোগদান করেছি। ১১ বছর ধরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্টোনোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছি। নতুন নিয়োগ না থাকায় আমি সিভিল সার্জনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, দাওয়াত ও পুলিশ কেইস রিপোর্ট লিপিবদ্ধ করি।”
সাবেক প্রধান সহকারী জাহিদুল হক বলেন, “আমি কোনো বেতন-ভাতা নিই না। শুধুমাত্র সহযোগিতা করার জন্য অফিসে আসা-যাওয়া করি।”
তবে অন্য সাবেক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, “সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অবসরে যাওয়ার পরও কর্মকর্তারা অফিস করছেন—এটি প্রশাসনিক অরাজকতার বড় উদাহরণ। বিষয়টি তদন্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শাহীন বলেন, “অফিসে লোকবল সংকটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা মাঝে মাঝে সহযোগিতা করেন। তারা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান না। সদর হাসপাতালের তুলনায় আমার অফিসে জনবল কম থাকায় আয়া রুনা আক্তার এখানেই দায়িত্ব পালন করছেন।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :