বরিশাল শে-রে বাংলা হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে পন্ড হয়ে গেছে ছাত্র জনতার অনশন | Daily AjKaler Kontho

বরিশাল শে-রে বাংলা হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে পন্ড হয়ে গেছে ছাত্র জনতার অনশন


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৪, ২০২৫, ৬:৪৬ অপরাহ্ন
বরিশাল শে-রে বাংলা হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে পন্ড হয়ে গেছে ছাত্র জনতার অনশন

বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ধাওয়া ও মারধরে পণ্ড হয়ে গেছে ছাত্র–জনতার ব্যানারে আয়োজিত অনশন কর্মসূচি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে গত শুক্রবার থেকে বরিশাল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ ও তিন দিন ধরে শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশন পালন করছিলেন।

আজ সকালে সেখানে তিন শিক্ষার্থী অনশন শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন আন্দোলনকারী মেডিসিন ওয়ার্ডের জরুরি বিভাগের এক কর্মীকে লাঞ্ছিত ও ইন্টার্ন চিকিৎসক–নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তখন হাসপাতালের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরে হাসপাতালের কর্মচারীরা বাইরে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কর্মকর্তা–কর্মচারীদের তোপের মুখে আন্দোলনকারীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন। এ সময় আন্দোলনকারী একজনকে ধাওয়া করে মারধর করতে দেখা যায়। এই আন্দোলনের সংগঠক মহিউদ্দিন রনি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যান। পরে হাসপাতালের কর্মচারীরা সামনের বান্দ রোডে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা মহিউদ্দিন রনির বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী পবলেন, ‘১৫ দিন ধরে আন্দোলনের নামে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাহত করা হচ্ছে। হাসপাতালের মূল ফটকে অনশনের নামে একধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে বরিশালের সব রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তাতে আশ্বস্ত হয়। এরপরও একটি ক্ষুদ্র অংশ অযৌক্তিক আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দেয়। তাঁরা আমাদের স্টাফদের মারধর করেছেন, চিকিৎসক–নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এ জন্য আমরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।’এদিকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

১৭ দিন ধরে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে বরিশালে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ছাত্র–জনতার ব্যানারে এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার থেকে গতকাল পর্যন্ত ছয় দিন বরিশাল–ঢাকা মহাসড়ক সাড়ে ২৯ ঘণ্টা অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে অঞ্চলের যাত্রী ও চালকেরা দুর্ভোগের শিকার হন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বরিশাল ছাড়া বিভাগের পাঁচ জেলার লাখো যাত্রী যাতায়াত করেন।আন্দোলন ও মহাসড়ক অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর বরিশালে আসেন।

তিনি দুপুর ১২টার দিকে শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজের সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, হাসপাতাল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলোচনা সভায় যোগ দেন। বেলা সোয়া তিনটা পর্যন্ত এই সভা চলে। আলোচনায় মহাপরিচালক শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং মেডিকেল কলেজের পরিচালক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানান। অন্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো, শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আবার সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেওয়া।

 

আজকালের কন্ঠ/আর এস/ বরিশাল