অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া নলছিটি গোহালকাঠী সরকারী প্রথামিক বিদ্যালয় | Daily AjKaler Kontho

অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া নলছিটি গোহালকাঠী সরকারী প্রথামিক বিদ্যালয়


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২২, ২০২৪, ৪:৩৫ অপরাহ্ন
অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া নলছিটি গোহালকাঠী সরকারী প্রথামিক বিদ্যালয়

শাখাওয়াত হোসেন সোহাগ, নলছিটি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির জেলার নলছিটির উপজেলায় ৬৪নং কান্ডপাশা গোহালকাঠী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মলিনা রানী গোস্বামীর সেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম দুর্নীতির কারনে ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে একের পর এক নাম মাত্র প্রকল্প দিয়ে সরকারী অর্থ লোপাট ও শিক্ষক শিক্ষার্থীর সাথে অসাদাচারন করলেও এখন রয়েছেন বহাল তবিয়াতে।

সরেজমিনে জানাগেছে. উপজেলার ৬৪ নং কান্ডপাশা গোহালকাঠী স:প্রা বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা মলিনা রানী গোস্বামীর অনিয়ম দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার কোন পবিবর্তন হয়নি।তার অনিয়ম দুর্নীতির কারনে বছর তিনেক আগে তাকে বদলী করে এই বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়।যোগদানের সাথে সাথেই তিনি পূর্বের কর্মকান্ড পরিচালনা অব্যাহত রাখছেন। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের টাকা বরাদ্ধ পেলেও নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে লোপাট করেছেন। প্রধান শিক্ষিকা এই সব অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।ঐ এলাকার গন্যমান্য ও অভিভাবকরা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাইলে তিনি বিভিন্ন ধরনের মানহানী মামলার ভয় দেখায়। বিদ্যাপিঠে আশা কোমল মতি শিশুদের সাথে অশালীন আচারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত এবং বাসায় থেকে স্কুলের হাজিরা খাতায় উপস্থিতিত দেখানো তার নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার।

তিনি বিদ্যালয়ে সপ্তাহে পাঁচ দিন উপস্থিত থাকার কথা থাকলো তিনি মাত্র সপ্তাহে ২-১ দিন স্কুলে আসেন। কদাচিৎ দু’একদিন উপস্থিত থাকলেও কাজের অজুহাত দেখিয়ে স্কুলে থেকে বের হয়ে যান।স্থানীয় জনগণ জানান, প্রধান শিক্ষিকা এখানে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে। প্রতিনিয়ত শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অশালীন আচরণ তার নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার।প্রতিষ্ঠানটিতে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই শিক্ষিকা নলছিটি উপজেলার মালোয়ার সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে থাকা অবস্থায় তার অনিয়ম দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন আচরণের কারণে সেখান থেকে স্থানীয়দের তোপের মুখে বদলি করে এই বিদ্যালটিতে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি পূর্বের স্বভাব অভ্যাহত রেখেছেন। এখানে ও তিনি নিজের খামখেয়ালী পনায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সাধারণ জনগণ জানান, প্রধান শিক্ষিকা তিনি কোন কিছু তোয়াক্কা না করে স্কুল চালায়।সে প্রতিদিন স্কুলে আসে না। স্কুলে আসলে ঘন্টাখানেক সময় দিয়ে চলে যান।জিজ্ঞেস করলে বলেন আমার অফিসের কাজ আছে। তারা আরও বলেন নলছিটি উপজেলায় যে কয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছেন তার ভিতরে এই প্রধান শিক্ষিকা ভয়ানক। সাংবাদিকরা নিউজ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সাথে অশালিন আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে সাংবাদিক দের সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ঐ প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকদের কোন তথ্য না দিয়ে তার কক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেন।
এই প্রধান শিক্ষিকার অনিয়ম দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ দিলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার জানান, মলিনা রানী গোস্বামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে তা সত্যতা প্রমাণ হইলে তাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। তিনি আরো বলেন এই প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকের সাথে অশোভনীয় যে আচরণ করেছেন সেটা কখনো কাম্য ছিল না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:নজরুল ইসলাম বলেন ইতি মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে একটা প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছেন প্রতিবেদন তৈরি করে এক কপি জেলা শিক্ষা অফিসার এবং এক কপি তাহার কাছে দিতে বলেন। আরো বলেন এ প্রতিবেদন প্রাপ্তির সাপেক্ষে যে আইনগত ব্যবস্থা করা দরকার তাই করা হবে। একজন প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকদের সাথে এরকম আচরণ কখন কাম্য নয়।