একজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে খালিয়াজুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | Daily AjKaler Kontho

একজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে খালিয়াজুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৪, ২:৪১ অপরাহ্ন
একজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে খালিয়াজুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:- ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি এ হাসপাতালটিতে চলছে জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ ডাক্তারের ৯ টি পদের মধ্যে ৩টি পদই শূন্য, বাকি ৬টি পদের বিপরীতে পোস্টিং থাকলেও এদের মধ্যে ৫জন ডাক্তারই অন্যান্য হাসপাতালে কর্তব্যরত (প্রেষণে) রয়েছেন ।এ হিসেবে খালিয়াজুরী হাসপাতালে ডাক্তার আছেন মাত্র একজন। ফলে একমাত্র ডাক্তারের ওপর নির্ভরশীল এখানকার বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বেসরকারি সংস্থায় খালিয়াজুরীতে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন উন্নয়ন কর্মী বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১২ টার দিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তারা হাসপাতালটিতে কোন ডাক্তার পাননি। প্রায় একই কথা জানান, খালিয়াজুরী সদরের পুরানহাটি গ্রামের আশ্রব আলীর স্ত্রী সরুফা বেগম (৬০), তিনিও সেই সময় চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে। সেখানে অনেক খুঁজে কোন ডাক্তার পাননি তিনি।

ডাক্তার না পেয়ে সরুফা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘খাইল্ল্যাজুরী হাসপাতালে কোন ডাক্তার খুইজ্যা পাইলাম না। ট্যাহার অভাবে অইন্য কোনখানেও চিকিৎসা নিতে যাইতাম পারতাম না। তাই অহন চিকিৎসা ছাড়াই মরণ লাগব আমর মত গরীব মানুষরা।

স্থানীয় অনেকেই জানান, এ হাসপাতালে প্রায়শই কোন ডাক্তার খোঁজে পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে জটিল ও জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি শুধু বেড়েই চলে। হাওর জনপদ খালিয়াজুরী উপজেলায় সরকারি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ছাড়া অন্য কোন হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক নেই। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন সুদৃশ্য এ হাসপাতালে কোন রোগীর ৫০ টাকা খরচের রোগ সনাক্তকরণের প্রয়োজন হলে মিলে না তেমন কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও। ফলে রোগীকে দুরের পথ পেরিয়ে যেতে হয় জেলা কিংবা অন্য কোন উন্নত উপজেলা শহরে। এতে রোগীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ ও অপচয় হয় অধিক বেশি অর্থের। দুর্গম এ খালিয়াজুরীতে গর্ভবতী জটিল রোগীদের চিকিৎসা সেবা পাওয়া দুষ্প্রাপ্য।

তাই এখানে মা ও শিশু মৃতের হার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে অনেকটা বেশি। এখানকার হাসপাতালটিতে কোন গর্ভবতী মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন কখনো হয়নি। অপারেশন থিয়েটারটি অচল বয়েছে ডাক্তার যন্ত্রপাতি এবং ব্লাড ব্যাংকের অভাবে। ডাক্তার সংকটের কারণে তেমন কোন চিকিৎসাই মিলে না এখানে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি অপরিচ্ছন্ন থাকে বেশির ভাগ সময়।

হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, এ হাসপাতালে মোট পদের সংখ্যা ১০৯টি। এর মাঝে ৫০টি পদেই শূন্য। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ রয়েছে ৪টি। এর মাঝে জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি পদটি শূন্য। অন্য তিনটি পদ জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, গাইনি ও অবস পদের বিপরীতে তিন জনের পোস্টিং থাকলেও এসব ডাক্তাররা এখানে নেই। তারা প্রেষণে রয়েছেন অন্যান্য হাসপাতালে। তাছাড়া, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ও আয়ুর্বেদিক দুটি পদের বিপরীতে থাকা দু’জন ডাক্তারও প্রেষণে আছেন দীর্ঘদিন ধরে। মেডিকেল অফিসারের দুটি পদ রয়েছে শূন্য। এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসা দেবার জন্য ডাক্তার হিসেবে আছেন শুধু একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)।

এদিকে, হাসপাতালে কোন সময় ডাক্তার অনুপস্থিত থাকেন- কথাটি সত্য নয়, এনমটি জানিয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউ এইচ এফ পি ও) ডা. সৌনম বড়ুয়া বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি সংকটের বিষয়ে মাসিক ও বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, ডাক্তার সংকট কাটাতে সিভিল সার্জন আপাতত পার্শ্ববর্তী অন্যান্য হাসপাতাল থেকে এনে এখানে দু’জন করে ডাক্তার সংযুক্তি দিচ্ছেন প্রতি দু’সপ্তাহের জন্য।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিতকরণের ভবন নির্মাণ হয়েছে প্রায় একবছর আগে। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন ও জনবল না থাকায় সেটি এখনো চালু হয়নি।