বন্যার পানিতে ভাসছে গাইবান্ধার চার উপজেলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে | Daily AjKaler Kontho

বন্যার পানিতে ভাসছে গাইবান্ধার চার উপজেলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুলাই ৫, ২০২৪, ৩:২৫ অপরাহ্ন
বন্যার পানিতে ভাসছে গাইবান্ধার চার উপজেলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং তার সাথে চলমান বৃষ্টিপাত এর ফলে গাইবান্ধা জেলার সবকয়টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বন্যার কবলে পড়েছে জেলার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জসহ চার উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চার উপজেলার অনন্ত ২০ হাজার পরিবার। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলার ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে আছে আউশ ধান, পাট, ভুট্টা ও আমনের বীজতলা । তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের পুকুর । ফলে কৃষক খামারিদের প্রাণদনার আর্তনাদে হা হা করছে তাদের মাঋে।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (৫ জুলাই) সকাল ৯টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি জেলার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, জেলার করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার ১৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং তিস্তা নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে বন্যার পানি ওঠায় ইতোমধ্যে সদর উপজেলার ১৭টি, ফুলছড়িতে ১৪টি, সাঘাটায় ২১টি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১১টিসহ জেলার মোট ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। এছাড়া, সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তিনটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ।
পানিবন্দি এসব এলাকার মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, কঞ্চিপাড়া, উড়িয়া ও ফজলুপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যায় পানিতে ভাসছে বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি। এসব এলাকার চারদিকেই পানি থইথই করছে। নিম্নাঞ্চলের সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে পড়েছে। শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে তারা ধীরে ধীরে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। পানিবন্দি মানুষদের নৌকাযোগে চলাচল করতে দেখা গেছে।

এছাড়া, গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি এসব পরিবারগুলো। এসব এলাকার পাট ও আউশ ক্ষেত পানিতে ভাসছে । বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনে পাট, ভুট্টা, বাদাম ও আউশক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, চলমান বন্যায় ইতোমধ্যে চার উপজেলায় দুই হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, ভুট্টা, বীজতলা ও শাকসবজি পানিতে ডুবে রয়েছে। যদি দ্রুত পানি নেমে যায়, তাহলে এসবের ক্ষতি কম হবে। আর যদি বন্যা স্থায়ী হয়, কিংবা আরও বাড়ে… তাহলে কী পরিমাণ ফসল নষ্ট হবে, তা পরে জানা যাবে।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, উজানের ঢলে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।