নেত্রকোনায় ফিল্মি স্টাইলে মাইক্রোবাস ছিনতাই গ্রেফতার -৪জন | Daily AjKaler Kontho

নেত্রকোনায় ফিল্মি স্টাইলে মাইক্রোবাস ছিনতাই গ্রেফতার -৪জন


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২৪, ৩:২০ অপরাহ্ন
নেত্রকোনায় ফিল্মি স্টাইলে মাইক্রোবাস ছিনতাই গ্রেফতার -৪জন

নেত্রকোনা, জেলা প্রতিনিধি : ফিল্মি স্টাইলে মাইক্রোবাস ছিনতাই এবং গাড়ির চালক শাহীন আলমকে অপহরণের পর জিম্মি করে রাতভর নির্যাতন। পরে গাড়ি বিক্রির চুক্তিনামা তৈরির অপচেষ্টার পর হাতে চারজন গ্রেফতার এবং ভিকটিম ও ছিনতাইকৃত মাইক্রোবাস উদ্ধার করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ।

একদিনের রিমান্ড শেষে গত বুধবার গ্রেফতারকৃত চারজনকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। এরআগে গত রবিবার ভিকটিমের স্ত্রী শারমীন সুলতানা বাদী হয়ে তার স্বামী শাহীন আলমকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবী ও মাইক্রোবাস ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নেত্রকোনা আটপাড়া উপজেলার লুনেশ্বর গ্রামের মোজাম্মেল হক ওরফে মজনু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (২৫) এবং নেত্রকোনা পৌরশহরে নাগড়া এলাকার শামছুদ্দিনের ছেলে সুমন মিয়া (২৬), বড় কাইলাটি এলাকার এরশাদ মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া (২৪) ও কুরপাড় এলাকার হাসমত মোস্তফা হাসানের ছেলে পারভেজ হাসান (২৪)।

ভুক্তভোগী শাহীন আলম জানান, গত শনিবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গাজীপুর কলতাপাড়া গ্রাম হতে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ফকিরাবাজার এলাকায় আসা যাওয়ার ভাড়ায় রওয়না দেন। ১৪জন যাত্রী নিয়ে নিজের হায়েস মডেলের মাইক্রোবাসটি তিনি নিজেই চালান। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফকিরাবাজার থেকে গৌরীপুরের উদ্দেশ্যে ফেরার পথে আনুমানিক সাড়ে ৬টার সময় নেত্রকোনা কুরপাড় কাইলাটি মোড়ে একজন যাত্রী সামান্য অসুস্থ বোধ করেন। রাস্তার পাশে থামানো হলে গাড়ী থেকে কয়েকজন যাত্রী ও তিনি নিজেও নামেন। হটাৎ করে বেশ কিছু যুবক অস্ত্রের মুখে তাদেরকে জিম্মি করে ফেলে। গাড়িতে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গাড়িটি ছিনতাই করে এবং তাকে (চালক) রাস্তার পাশেই একটা টিনের ঘরে আটকে রাখে তার কাছে থাকা দুইটি মোবাইল ফোন, ম্যানিব্যাগ, ভোটার আইডি, গাড়ীর অতিরিক্ত একটি চাবী, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।

রাতভর ওই ঘরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অস্ত্রের মুখে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে স্ত্রী শারমিন সুলতানার মোবাইলে মুক্তিপণ দাবী করা হয়। দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে গাড়ি ও কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার এমন শর্ত দেয় অপহরণকারীরা। তবে মুক্তির পর পুলিশকে যেন না জানানো হয় সেজন্য ভুক্তভোগীকে চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। অপহরণকারীদের শর্ত অনুযায়ী নেত্রকোনা আইনজীবী সমিতির নিচতলায় জনৈক এডভোকেট সাহেবের নিকট তাকে হাজির করা হয়। জনৈক এডভোকেট সাহেব জোরপূর্বক চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করলে তিনি দেখেন তার মাইক্রোবাসটি বিক্রয় চুক্তিনামা তৈরি করা হয়েছে। তখন তিনি উক্ত বিক্রয় চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। সেখান থেকে জোর করে এডভোকেট সাহেবের মোটরসাইকেলে উঠিয়ে কুরপাড় কাইলাটি মোড়ে সেই টিনের ঘরে নিয়ে যায় হয় এবং অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

একপর্যায়ে অপহরণকারী ব্যস্ত থাকার সুযোগে ভুক্তভোগী ঘর থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় উঠে জেলখানার সামনে চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নেত্রকোনা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই (উপ-পরিদর্শক) ফরিদ ভুক্তভোগীকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। অল্প সময়ের মধ্যে মডেল থানাধীন বলাইনগুয়া এলাকা হতে ছিনতাইকৃত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, মামলা রুজুর পরপরই একটি চৌকস টিম কাজ শুরু করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভিকটিম ও ছিনতাইকৃত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার এবং চারজন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত প্রত্যেককে একদিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণের কথা জানান তিনি।