
নেত্রকোনা, জেলা প্রতিনিধি : শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ময়মনসিংহ র্যাব -১৪ এর লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার আল আমিন পূর্বধলা উপজেলার খামারহাটি (কোণাপাড়া) গ্রামের মো. নুরুল আমিন মাস্টারের ছেলে।
আর হত্যার শিকার বৃদ্ধ খুরশেদ আলম (৫৬) একই গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, উপজেলার খামারহাটি গ্রামের খুরশেদ আলম ও আল আমিন একে অপরের প্রতিবেশী। খুরশেদ আলমের বাড়ির পেছনে আল আমিনদের জমি রয়েছে। বাড়িতে থাকা গাছপালার পাতা সেই জমিতে পড়ে। এ নিয়ে প্রায়ই খুরশেদ আলমের পরিবারের লোকজনকে গালিগালাজ করে আসছিল।
গত ১২ এপ্রিল বিকেলে খুরশেদ আলমের হাঁস আল আমিনদের খেতে যায়। এ নিয়ে আল আমিন ও তার বাবা নুরুল আমিন মাস্টার মিলে খুরেশদকে অশালীন গালাগাল করতে থাকে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে হাঁস তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় নুরুল আমিন মাস্টার খুরশেদকে ঘুষি মারে। এসময় আল আমিন খুরশেদের ঘাড়ে ধরে সজোরে ধাক্কা মেরে জমিতে লম্বা সিমেন্টের খুঁটির উপর ফেলে দেয়। ফলে খুরশেদ আলম অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দ্রুত খুরশেদ আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে আবারও মারধর করে ও বাধা দেয়। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে খুরশেদকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পর দিন নিহতের ছেলে মো. মোমেন মিয়া বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে নুরুল আমিন মাস্টার ও তার ছেলে আল আমিনসহ ৬জনের নামউল্লেখসহ আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
তবে ঘটনার পর থেকে নুরুল আমিন মাস্টার ও তার ছেলে আল আমিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। অন্য আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। পলাতক আসামিদের ধরতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের র্যাব। প্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে আল আমিনের অবস্থান সনাক্ত করে র্যাব। পরে গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে র্যাব-১৪ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
ময়মনসিংহ র্যাব -১৪ এর লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে রোববার সকালে তাকে পূর্বধলা থানায় হস্তান্তর করা হয়। অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে আলম আমিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এ মামলার ৬ জন আসামির মধ্যে ৪ জন আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলার মূল দুই আসামি নুরুল আমিন মাস্টার ও তার ছেলে আল আমিন পলাতক ছিল। তবে পলাতক নুরুল আমিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :