
পলাশ সিকদার,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় যৌতুকের মামলার জের ধরে স্ত্রী সন্তানসহ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চন্দ্র দিঘলিয়া ইউনিয়নের কারিকর পাড়ায় মহরম উদ্দিন মোল্লার ছেলে সাফায়েত মোল্লার প্রথম স্ত্রী মোরসেদা বেগম তার স্বামী শাফায়েত মোল্লা সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা দায়ের করেন।
এর জের ধরে আজ রবিবার সকাল অনুমান আটটার দিকে সাফায়েত মোল্লাসহ ৫/৬ জন লোক সঙ্গে নিয়ে তার প্রথম স্ত্রী মোরশেদা বেগমের বাড়িতে যায়। বাড়িতে গিয়ে দায়ের কৃত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে প্রথম স্ত্রী মোরশেদা কে মারপিট করতে থাকে, এ অবস্থায় তার ছোট মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী
রুকাইয়া খানম ঠেকাইতে গেলে তাকেও মাটিতে ফেলে মারপিট করে এবং বাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা প্রথম স্ত্রী মোরসেদা বেগম ও মেয়ে রোকাইয়া কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে প্রথম স্ত্রী মোরশেদা বেগম জানান,আবার স্বামী সাফায়েত মোল্লা আমাকে না জানিয়ে লিপি বেগম নামের এক মহিলাকে বিবাহ করে পৃথক বাড়িতে প্রায় চার মাস ধরে ঘর-সংসার করছে।
আমাদের কোন খোজ খবর নেয় না। তার কাছে সংসার চালানোর জন্য টাকা-পয়সা চাইলে সে আরো উল্টো পথে আমাকে মারপিট করে এবং যৌতুকের দাবী করে। আমি আমার মেয়েদের নিয়ে সংসার চালাইতে হিমশিম খাচ্ছি। এমতাবস্থায় আমি নারী শিশু ও যৌতুকের মামলা দায়ের করি।
তারপর থেকে আমাকে প্রায়ই সময় আমার বাড়িতে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে থাকে। এরই জের ধরে আজ সকালে আমার স্বামী সাফায়েত মোল্লা ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি বেগম সহ ৫/৬ জন আমার বাড়িতে আসিয়া মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েই আমাকে মারপিট করতে থাকে এবং আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে রুকাইয়া ঠেকাইতে আসলে তাকেও মারপিট করে ও বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা আমাকে ও আমার মেয়েকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভতি করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাফায়েত মোল্লার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে সাংবাদিক নাম শুনতেই ফোনটি কেটে দেন। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর তদন্ত কেন্দ্রের আইসি জানান, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :