
বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি : রঙ-বেরঙের ফুলে বসন্তের সাজে যুগল, দিন শেষে ভালোবাসা কি ‘কেবলই চোখের জল?’ কেবলই দুঃখের শ্বাস?’ ‘সে কি কেবলই যাতনাময়?’ খোদ রবীন্দ্রনাথ এসব প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন। পৃথিবীজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা ভালোবাসার গল্পগুলোও বিয়োগ ব্যথার কথাই জোর দিয়ে বলে। না পাওয়া কিংবা পেয়ে হারানোই কি তবে ভালোবাসা? নাকি প্রিয় মানুষটিকে চিরকালের জন্য নিজের করে পাওয়াকে ভালোবাসা বলে? নিশ্চিত করে উত্তর দেওয়া মুশকিল। প্রায় অসম্ভব।
এই যে তিশা নামের তরুণীটি বয়সের বিপুল ব্যবধান ভুলে মুশতাক নামের ৬০ বছয় বয়সী এক প্রবীণের প্রেমে পড়ে গেলেন, প্রবীণটিও যে সামাজিক প্রথা ভেঙে খান খান করে দিয়ে সংসার পাতলেন মেয়েটির সঙ্গে- কী বলবেন একে? ভালোবাসা না বলার উপায় আছে কি? তো, সব মিলিয়ে ভালোবাসা বড়ই অদ্ভুত।
আজ এই অদ্ভুত অনুভূতির কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার বিশেষ দিন। শাশ্বত প্রেমের কাছে নত হওয়ার ১৪ ফেব্রুয়ারি আজ। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সংজ্ঞা যা-ই হোক, সবাই আজ ভালোবাসায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবেন নতুন করে। ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে/আমার নামটি লিখো, তোমার/মনের মন্দিরে…।’ লেখা হয়েছে কি প্রিয় নাম? বলা হয়েছে, ‘ভালোবাসি’? আজ বলুন। ভালোবাসার শক্তিতে সুন্দর সমাজ, প্রেমময় পৃথিবী গড়ার শপথ নেওয়ার আজই তো দিন। আজ ভালোবাসার নেশায় নতুন করে বুঁদ হবে হৃদয়। সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও উদ্যাপিত হবে ভ্যালেন্টাইন ডে।
প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অন্যকে বিভিন্ন উপহার দেবেন। মোবাইল ফোন, এসএমএস, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে হবে ভালোবাসার আদান-প্রদান। প্রেমিকের হাত হয়ে প্রেমিকার সুবিন্যস্ত খোঁপায় উঠবে লাল গোলাপ। কিন্তু যে ভালোবাসা নিয়ে এত কথা, সেই ভালোবাসা আসলে কী? ‘প্রেম’ কাকে বলে? এসব প্রশ্নের উত্তর অনন্ত কাল ধরে খোঁজা হচ্ছে। সহজ কোনো উত্তর নেই। হয়ও না।
কবিগুরু তাই হয়তো লিখেছিলেন, ‘যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা তোমায় জানাতাম।/কে যে আমায় কাঁদায় আমি কী জানি তার নাম।’ অন্যদিকে, যারা নামটি জানেন, তবে তাকে বলতে পারেন না ‘ভালোবাসি’, সেই তাদের ব্যথা তুলে ধরে কবিগুরু লিখেছেন : ‘আমি যে আর সইতে পারি নে।/সুরে বাজে মনের মাঝে গো, কথা দিয়ে কইতে পারি নে।’ অন্যত্র তিনি লিখেছেন, ‘লাগে বুকে সুখে দুঃখে কত যে ব্যথা,/কেমনে বুঝায়ে কব না জানি কথা…।’
প্রেমের কবি নজরুল প্রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে গেয়েছিলেন: ‘চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না এ নয়ন পানে/জানিতে নাইকো বাকি, সই ও আঁখি কি জাদু জানে।সহযোগিতা করতেন। এ অপরাধে রোমের ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। বন্দিী থাকাবস্থায় অনেক তরুণ তাকে দেখতে যেত।
জানালা দিয়ে তার উদ্দেশ্যে চিরকুট ও ফুল ছুড়ে দিত। হাত নেড়ে জানান দিত, তারা যুদ্ধ নয়, ভালোবাসায় বিশ্বাস রাখে। এদের মধ্যে একজন আবার ছিল কারারক্ষীর মেয়ে। তার বাবা তাকে ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিতেন। একপর্যায়ে তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে যান। ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির উদ্দেশ্যে একটি চিরকুট লিখে রেখে যান।
এতে লেখা ছিল ‘লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’। বিচারকের নির্দেশ অনুসারে সেদিনই ভ্যালেন্টাইনকে হত্যা করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের এই আত্মত্যাগের দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। কালের ধারাবাহিকতায় আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
আপনার মতামত লিখুন :