রাজধানীজুড়ে গ্যাসের জন্য হাহাকার | Daily AjKaler Kontho

রাজধানীজুড়ে গ্যাসের জন্য হাহাকার


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৭, ২০২৪, ১:৩৮ অপরাহ্ন
রাজধানীজুড়ে গ্যাসের জন্য হাহাকার

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : গ্যাস সংকট, রাজধানীবাসীর পুরনো সমস্যাগুলোর একটি। শীত এলে প্রতি বছরই এই সংকট ভোগান্তিতে রূপ নেয়। তার ওপর চাহিদার তুলনায় এবার গ্যাসের সরবরাহও অনেক কম, যার ফলে ভোগান্তির মাত্রা এ বছর আরও বেশি। রাজধানীর বেশির ভাগ আবাসিক এলাকায় এখন গ্যাসের অভাবে চুলা প্রায় জ্বলছেই না। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। স্টেশনগুলোর বাইরে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে শিল্পকারখানাগুলোও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম গ্যাস সরবরাহ করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। সেইসঙ্গে শীতে ঠান্ডার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইপলাইনে গ্যাস জমে সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশে বর্তমানে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৪২০ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে ২৫৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ১৬৫ কোটি ঘনফুট। আবার দেশি গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকেও দিন দিন উৎপাদন কমছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের কাজ চলছে। তবে সম্প্রতি যে সংকট চলছে সেটি কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হবে। যদিও খুব তাড়াতাড়ি সংকট সমাধানের কোনো আশা দেখাতে পারেননি তিনি।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা গ্যাস সরবরাহে দেশে দুটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) আছে। গত নভেম্বর মাসে একটি ইউনিট সংস্কারের জন্য পাঠানো হয়। এ কারণে গ্যাসের সংকট বেড়েছে। সংস্কার শেষ হওয়ার দু-একদিনের মধ্যেই ইউনিটটি গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে। কিন্তু একইসঙ্গে অন্য একটি এফএসআরইউ সংস্কার কাজের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই ইউনিটটির সংস্কারকাজ চলবে। এরপর আগামী রমজান ও বোরো সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পেট্রোবাংলাসহ জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গ্যাস সংকটের কারণে ২০২০ সালের এপ্রিলের পর এবারই দেশে গ্যাসের সরবরাহ সর্বনিম্ন। এই সরবরাহ ২০২১ সালের শেষ ছয় মাসের গড় সরবরাহ থেকেও কম। সে সময় ডলারের অভাবে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বন্ধ ছিল। এলএনজির দামও তখন ছিল আকাশছোঁয়া।

চলতি মাসের শুরু থেকে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, শেখের টেক, পশ্চিম ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, মধুবাজার, ডেমরা, পূর্ব দোগাইর, হাজীনগর, কোলাটিয়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া, মিরপুর, শ্যামলী, পল্লবী, বনশ্রী, গেণ্ডারিয়া, নবাবগঞ্জ, নারিন্দা, মোহাম্মদপুর ও ভাষানটেকসহ পুরান ঢাকার বেশিরভাগ এলাকা ঘুরে গ্যাসের সংকট দেখা গেছে।