শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগের দুপক্ষের দ্বন্দ্বে আ.লীগ কার্যালয় ভাংচুর, আহত ৩ | Daily AjKaler Kontho

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগের দুপক্ষের দ্বন্দ্বে আ.লীগ কার্যালয় ভাংচুর, আহত ৩


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৯, ২০২৪, ৫:১১ অপরাহ্ন
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগের দুপক্ষের দ্বন্দ্বে আ.লীগ কার্যালয় ভাংচুর, আহত ৩

মো: নাসির খান (শরীয়তপুর) : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সরকারি এমএ রেজা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি ২০২৪ সোমবার বিকেলে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি এমএ রেজা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা মুন্সী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোরসালিন হাওলাদার ভেদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান হাওলাদারের সমর্থক। আর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবর ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল বাসারের সমর্থক।

গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন প্রান্ত মাদবরের সঙ্গে সৈয়দ আবু জাফর আশিক বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। গতকাল রোববার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসেছিলেন আশিক, শাহাজাদা ও মোরসালিন। রাত ৯টার দিকে প্রান্ত মাদবরসহ ২৫-২৬ জন লোক উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢুকে হঠাৎ হামলা চালায়। মারধরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজিব ওয়াজেদ জয়, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের ছবি ভাংচুর করা হয়। এছাড়া চেয়ার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলে।

এসময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আশিক, শাহাজাদা ও মোরসালিনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহতদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে আহত সৈয়দ আবু জাফর আশিক বাদী হয়ে প্রান্ত মাদবরসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সরকারি এমএ রেজা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আহত সৈয়দ আবু জাফর আশিক বলেন, ‌‘আমরা নির্বাচন শেষে ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসে গল্প করছিলাম। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ প্রান্ত মাদবর তার দলবলসহ আমাদের ওপর হামলা চালায়।

উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভেদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘প্রান্ত মাদবর, শুভ বেপারীরা সন্ত্রাসী কায়দায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। আমাদের তিন ছাত্রলীগের নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে।’

তবে এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল বাসার বলেন, ‘গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ছাত্রলীগ ছাত্রলীগ ঝগড়া হয়। তারই জেরে ঘটনাটি ঘটেছে।’

জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি, খুবই দুঃখজনক। যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। এখনো মামলা হয়নি। আইনি কিছু প্রক্রিয়া আছে, তদন্ত চলছে। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’