
আজকালের কন্ঠ ডেস্ক :- সুনামগঞ্জে যাবজ্জীবন দণ্ডিত এক আসামির সঙ্গে কারাগারেই বিয়ে হয়েছে দুলবী বেগম নামে এক নারীর।
মঙ্গলবার ৬ লাখ টাকা দেনমহরে দুলবী বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় যাবজ্জীবন দণ্ডিত কয়েদি আব্দুর রশীদের।
এদিকে বিয়ের খবর শুনে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পেছনের গল্পটা মোটেও মধুর নয়।
আরও পড়ুন: ওসির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ সুরঞ্জিতপত্নীর
জানা গেছে, ২০১০ সালে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের সিরামিশ গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে দুলবী বেগমের সঙ্গে পরিবারের অগোচরে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয় একই এলাকার নবীনগর গ্রামের মৃত ছাইম উল্লাহর ছেলে আব্দুর রশীদ ওরফে শহিদের।
গোপনে বিয়ের এই সম্পর্ক জানাজানি হলে বিয়ের কিছু দিন পর যুক্তরাজ্যে চলে যান শহিদ। সেখানে গিয়ে দুবলীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করেন এ যুবক। এর কিছু দিন পর একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন দুবলী বেগম।
বিয়ে ও ছেলে সজিবের স্বীকৃতির দাবিতে ২০১১ সালে নারী ও শিশু আদালতের দারস্থ হন ভুক্তভোগী নারী। কিন্তু বিয়ের কোনো আইনি তথ্যপ্রমাণ না থাকায় মামলায় নানা জটিলতায় পড়তে হয় দুলবী বেগমকে। মামলা চলাকালীন দেশে ফিরে বিয়ে করেন অভিযুক্ত শহিদ। দ্বিতীয় পক্ষের ঘরে দুই সন্তান রয়েছে তার।
এদিকে ভুক্তভোগী নারী দুলবী বেগমের সন্তানের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে বিচারাধীন মামলায় ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর আব্দুর রশীদ শহিদ মিয়াকে অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
ভুক্তভোগী নারীর মা সরলা বেগম বলেন, আদালতের এই রায়ে আমি খুশি। আমার মেয়েটা যাতে সুন্দরভাবে সংসার করতে পারে, সে ক্ষেত্রে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট করছে, যা বলে প্রকাশ করা যাবে না। এবার একটু শান্তিতে থাকুক।
উচ্চ আদালতের নির্দেশ প্রতিপালন করতে এই বিয়ের আয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :