
মো: নাসির খান (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি : বেসরকারি একটি হাসপাতালে জন্মের ত্রিশ মিনিটের মধ্যে শ্বাসকষ্টে মারা গেছে নবজাতক। নবজাতকের মৃত্যুর প্রায় ৩ ঘন্টা ঘন্টা পর তার স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসর্তকার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাসপাতালটির। চিকিৎসক বলছেন জন্মের পর নবজাতক শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। নবজাতকের হার্টে ছিদ্র থাকলে সাধারণত এ ধরণের সমস্যা হয়। নবজাতকের মা সুস্থ রয়েছেন।
গতকাল শনিবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া এলাকার ঘড়িষার ডিজিটাল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯ টার দিকে চরলাউলানী গ্রামের রাসেল রাড়ীর স্ত্রী তামান্না বেগম(২৩) প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হোন। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দুপুর ১ টার দিকে নরমাল ডেলিভারিতে তামান্না কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এর আধা ঘন্টা পর নবজাতক শিশুটি শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যায়। প্রথমে তামান্নার স্বজনরা বিষয়টি মেনে নিলেও বিকেল চারটার দিকে হাসপাতালে হামলা চালায়। তামান্নার মামা ও ঘড়িষার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনসার মাঝি, আল আমিন, তারেক, সাব্বির, কুটুমসহ প্রায় ২০-২৫ জন তিন দফায় ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালের আল্ট্রা মেশিন, ইসিজি মেশিন, অক্সিজেন মেশিন, দুইটি কম্পিউটার, সিসিটিভি মনিটর, হাসপাতাল সংলগ্ন ফার্মেসীসহ প্রায় ১৭ ধরণের মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাসপাতালটির।

হাসপাতালের ক্যাশিয়ার মো. সবুজ ঢাকা কালেরকন্ঠকে বলেন, আমি ক্যাশে বসে ছিলাম। হঠাৎ করেই আনসার মাঝিসহ প্রায় ২০-২৫ লোক এসে হাসপাতালে ভাঙচুর করে। একটু পরেই আরও লোক নিয়ে এসে আবার ভাঙচুর করে। এমনভাবে তারা তিনবার ভাঙচুর করে হাসপাতালের সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে।
হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিএম মোবারক হোসেন ঢাকা বলেন, আমি সন্ধ্যা ৭ টার দিকে খবর পেয়ে এসে দেখি হাসপাতাল ভাঙচুর করে তছনছ করে দিয়েছে।
হাসপাতালের প্রায় ১৭ ধরণের মেশিনপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে তারা ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। অন্য পরিচালকসহ মালিক পক্ষের সাথে কথা হয়েছে, আমরা এঘটনায় মামলা করব। দোষীদের বিচার চাই, যদি আমার হাসপাতাল স্টাফ বা ডাক্তারদের অবহেলার কারণে এই ঘটনা ঘটে, তাহলে তাদেরও বিচার হবে। কিন্তু আইন হাতে নিয়ে একজন মেম্বার এভাবে ভাঙচুর করে অন্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা অন্যায়।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামসুন্নাহার মনি বলেন, তামান্না আসার পর আমরা তাকে নরমাল ডেলিভারির পরামর্শ দিয়েছি। নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর দেখা যায় বাচ্চাটি নীল হয়ে যাচ্ছে। নবজাতকের জন্মের পর সাধারণত হার্টে ছিদ্র থাকলে শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টেই বাচ্চাটি মারা যেতে পারে। বাচ্চার মা তামান্না সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।
ঘড়িষার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনসার মাঝি বলেন, শিশুটি মারা যাওয়ার পর হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছি। শুধু আমি নই, স্থানীয় জনতাও হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে।
নড়িয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক আবির হোসেন বলেন, সকালে তামান্না নামে এক গর্ভবতী মা হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিল। দুপুরে সন্তান প্রসবের কিছুক্ষণ পর শিশুটি মারা যায়। তামান্নার স্বজন ও স্থানীয়রা নরমাল ডেলিভারির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসতর্কতার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে। শিশুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
আপনার মতামত লিখুন :