
নিজস্ব প্রতিনিধি : বগুড়া-৩ আসনে (আদমদীঘি-দুপচাঁচীয়া) আ.লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন শিবিরের হাতে নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা অজয় কুমার সরকার। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজ কল্যান উপ কমিটির সদস্য পদে রয়েছেন।গত ১৯ নভেম্বর (রোববার) দুপুরের পর আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোননয়নপত্র ক্রয় করেন।
অজয় কুমার সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনকল্যাণমুখী উন্নয়নমূলক কাজ করে গেছে এবং আগামীতেও যাবে। রাজপথ কখনো বেঈমানী করে না। সৎ, যোগ্য, পরিশ্রমী, ত্যাগী এবং ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব ঊর্ধ্বতন নেতারা অবশ্যই নির্বাচন করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আদমদীঘি-দুপচাচীয়ার সকল ভোটারদের তিনি ভোটকেন্দ্রে এসে রায় প্রদানের আহ্বানও জানান। এদিকে, আদমদীঘি-দুপচাচীয়ায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তরুন নেতৃত্ব এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজে এগিয়ে রয়েছেন অজয় কুমার সরকার।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলেও এবার তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের সঙ্গে কথা বলছেন। ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নিজেকে তুলে ধরতে লিফলেট বিতরুণ করছেন।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে নিজেকে সরব রেখেছেন অজয় সরকার। জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১৬ নভেম্বর গভীর রাতে ইসলামী ছাত্র শিবির অস্ত্র হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সে হামলায় বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর পায়ের রগ কেটে নির্মম ভাবে হত্যা করে ছাত্র শিবির। সে সময় আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অজয় কুমার সরকার। সে রাতে অজয় কুমার সরকারের উপরও হামলা-নির্যাতন চালিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে হলের দরজায় তালা দিয়ে চলে যায় ছাত্র শিবিরের দূর্বৃত্তরা। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম হেলিকপ্টার যোগে সেখানে পৌঁছে হলের তালা ভেঙ্গে অজয় কুমার সরকারকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে আওয়ামীলীগ। সে সময়ই মৃত্যুকে জয় করেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। তারপর থেকে আজ অব্দি অসুস্থ শরীর নিয়েই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে বিভিন্ন পদে জড়িত থেকে পরিচ্ছন্ন ইমেজে রাজপথে কাটিয়ে দিয়েছেন প্রতিটি দিন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। তার তিন সপ্তাহ পর হবে ভোটগ্রহণ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে। সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে এবং প্রচারের জন্য ১৯ দিন সময় রয়েছে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করতে হয়। অর্থাৎ, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালানোর সুযোগ থাকবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সময় এসেছে যোগ্য, সৎ ও ত্যাগী নেতার মূল্যায়নের, আগামী ৭ জানুয়ারি বগুড়া ৩ আসনের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :