
শরীয়তপুর প্রতিনিধি : স্কুলে যাওয়ার পথে প্রতিদিনই বখাটেরা উত্যক্ত করত এক স্কুল শিক্ষার্থীকে। স্কুল থেকে ফেরার পথে বখাটে মামুন বেপারি ওই স্কুল শিক্ষার্থী কিশোরীকে অশ্লিল কথা বললে কিশোরী বাড়িতে এসে বিষয়টি তার মাকে জানায়। তার মা মামুন বেপারীর অভিভাবকদের জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে মা-মেয়েকে মারধর করে ওই শিক্ষার্থীর চাচার দোকান ভাঙচুর করেছে মামুন বেপারী ও তার বন্ধুরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাতে শরীয়তপুরের সখিপুর থানায় এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাচা। পুলিশ বলছে ঘটনার তদন্ত করে নেওয়া হবে উপযুক্ত আইনী ব্যবস্থা।
বখাটে মামুন বেপারী সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মধ্য ঢালী কান্দি গ্রামের মজিবর বেপারীর ছেলে।
স্থানীয় ও ভূক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, চরভাগা ইউনিয়নের মৃধা কান্দি এলাকার মো. মজিবর বেপারির ছেলে মামুন বেপারি (২৫) অনেকদিন ধরে ওই স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করে আসছে। বুধবার(৮ নভেম্বর) স্কুল থেকে ফেরার পথে মেয়েটিকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তোলে। এসময় কিশোরীকে মামুন বেপারী ও তার সঙ্গীরা অশ্লীল কথা বলতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে ওই কিশোরী চিৎকার-চেচামেচি করলে মামুন তাকে অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মেয়েটি বাসায় গিয়ে বিস্তারিত তার মাকে জানায়। মেয়েটির মা বিষয়টি মামুনের অভিভাবক ও স্থানীয় মুরব্বিদের জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন বিকেলে মামুন বেপারি, রাজন মোল্লা, ফরাদ মোল্লা, ফয়সাল, সজিবসহ ২০ থেকে ২৫ জন এসে প্রথমে ওই স্কুল শিক্ষার্থীর চাচার দোকান ভাঙচুর করার পর ওই শিক্ষার্থীর মা, চাচা, চাচি, ফুফুসহ পাঁচ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
থানায় অভিযোগ দায়ের করা ভূক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর চাচা বলেন, আমার ভাতিজিকে ওরা দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করত। ভাবি এসবের প্রতিবাদ করায় বাড়ির মহিলাদের পিটিয়েছে তারা। আমার দোকান ভাঙচুর করেছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। বিষয়টির উপযুক্ত বিচার দাবি করছি আমি।
এবিষয়ে চরভাগা ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু প্রধানীয়া বলেন, ঘটনাটি আমার এলাকার। আমি বিষয়টি জানার পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত ওরা উত্যক্ত করতো। ওইদিন মেয়েটির মা প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে মামুন বেপারিসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল। একজন ইউপি সদস্য হিসেবে এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি আমি।
অভিযুক্ত বখাটেরা পালাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগী। বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :