আরএম সেলিম শাহী, শেরপুর থেকে : ৭৮ বছর বয়সেও সহায় সম্বলহীন হাসেন আলীর ভাগ্যে জুটেনি বয়স্কভাতার কার্ড। হাছেন আলী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের হাসলিগাঁও গ্রামের মৃত আক্কু শেখের ছেলে। ১শতাংশ জমি ছাড়া সহায় সম্বল বলতে তার আর কিছুই নেই। গ্রামবাসীরা জানান, হাসেন আলী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় একাধিক বিয়ে সাদী করলেও তাকে রেখে চলে গেছে সবাই। তার নেই কোন ছেলে মেয়ে। ১শতাংশ জমি থাকলেও তার ছিলোনা মাথা গোজার ঠাই। গ্রামবাসীরা মিলে ছোট্ট একটি ঘর করে মাথা গুজার ঠাই করে দিয়েছেন। অন্যের বাড়িতে কাজ কর্ম করে পেট চলে তার। নিজেই রান্না করে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে হাসেন আলীর। বয়সের ভাড়ে এখন কর্মহীন হয়েছেন তিনি। ফলে দিন কাটে তার অনাহারে-অর্ধাহারে। গ্রামের লোকজন দয়াকরে কেউ কিছু দিলে তাই খেয়ে দিন কাটে তার। থাকার ঘরে ছিলোনা একটি চকি। স্থানীয় সাংবাদিক তরিখুল আলমের দৃষ্টি পড়ে হাসেন আলীর দিকে। পড়ে তিনি ছোট্ট একটি কাঠের চকি ও ১০ কেজি চাল কিনে দেন তাকে। ওই চকিতে তার শুয়ে থাকার ব্যবস্থা হলেও সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। এসময় ঘরে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকার অনেকেই সরকারী সাহায্য সহযোগিতা পেলেও হাসেন আলীর ভাগ্যে জুটেনি কোন সাহায্য সহযোগিতা। বয়স্কভাতার কার্ডের ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বারের কাছে যাওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে হাসেন আলী বলেন, গত ১০ বছরে বহুবার গিয়েছি ১টি বয়স্কভাতা কার্ডের জন্যে। কেউ কার্ড দেওয়ার বিষয়ে না করেননি। পরিচয়পত্রের ফটোকপিও নিয়েছেন তারা। কিন্তু আজও তার ভাগ্যে জুটেনি একটি বয়স্কভাতার কার্ড। বর্তমানে হাসেন আলী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা বলেন, হাসেন আলী নামে কাউকে আমি চিনি না।
আজকালের কন্ঠ / সেলিম /এমএম
আপনার মতামত লিখুন :