আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কাওলা থেকে ফার্মগেট অংশ উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী কাওলা অংশ দিয়ে টিকেট কেটে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করেছেন। সেখান থেকে চলে যাবেন আগারগাঁও বাণিজ্যমেলার মাঠে। সেখানে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী আজ উড়ালসড়ক উদ্বোধন করলেও রোববার থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে মাত্র ১০ মিনিটে বিমানবন্দরে কাওলা থেকে ফার্মগেট পৌঁছাতে পারবেন যাত্রীরা।
এর আগে, দুপুর সোয়া ২টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকে দলে দলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই মাঠে জনতার ঢল নামে।
তথ্যমতে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি নামের প্রকল্পটি ২০১১ সালে হাতে নেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর। পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও আপাতত বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট অংশ খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নির্মাণ ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলা থেকে রেললাইন ধরে তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালীতে গিয়ে শেষ হবে। উড়ালসড়কে ওঠা-নামার জন্য মোট ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩১টি র্যাম্প রয়েছে। র্যাম্পসহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বা ২৭ শতাংশ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। বাকি অর্থের যোগান দেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২৫ বছরের চুক্তির মধ্যে সাড়ে ২১ বছর টোল আদায় করবে বিনিয়োগাকরী প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যাতায়াত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা মানতে হবে। সেতু বিভাগ এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঢাকা উড়ালসড়কে দুই ও তিন চাকার যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। তাই মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা নিয়ে উড়ালসড়কে ওঠা যাবে না। গাড়ি নিয়ে গিয়ে উড়ালসড়কে দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উড়ালসড়কে উঠতে ও চলাচল করতে পারবেন না পথচারীরা।
এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলতে হলে গাড়িভেদে নির্দিষ্ট অংকের টোল পরিশোধ করতে হবে। কার, ট্যাক্সি, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল, মাইক্রোবাস (১৬ সিটের কম) এবং হালকা ট্রাকের (৩ টনের কম) জন্য টোল দিতে হবে ৮০ টাকা। মাঝারি ট্রাক (৬ চাকা পর্যন্ত) ৩২০ টাকা, ৬ চাকার বেশির ট্রাক ৪০০ টাকা এবং সব ধরনের বাসের (১৬ সিট বা তার বেশি) জন্য ১৬০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :