আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের পর খুলে দেওয়া হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার সকালে এক্সপ্রেসওয়ের একাংশের উদ্বোধন করবেন। আর এ খবরে যানজটের যন্ত্রণায় খাবি খাওয়া নগরবাসীর মনে মিলেছে অনেকটাই স্বস্তি।
বিএনপির কর্মসূচির ওপর দলটির নেতাকর্মীদেরই আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ পরিদর্শন শেষে একথা বলেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কাওলা থেকে ফার্মগেট-তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত ১০-১১ মিনিটে কাভার করবে। এখানে অনেক যাত্রী আসা যাওয়া করবেন। এর সুফল অবশ্যই পাবে রাজধানীবাসি। এর সঙ্গে যখন মতিঝিল পর্যন্ত উদ্বোধন হয়ে যাবে, তখন সুফল অনেক বেড়ে যাবে এবং ঢাকা আরও আধুনিক শহরে রূপ নেবে। যান চলাচল আরো একটু ইজি (সহজ) হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কর্মসূচির ওপর নেতাকর্মীদেরও আস্থা নেই জনগণও নেই। কালো পতাকা নিয়ে বিএনপির যে মিছিল হয়, তা উত্তাল পরিস্থিতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমাদের ৬৫ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। এখন যে অংশ উদ্বোধন হচ্ছে না, সেখানেও অনেক কাজ হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোটা চালু করতে পারবো। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট থেকে মগবাজার, মগবাজার থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত গন্তব্য। পুরো অংশের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। র্যাম্পসহ মোট ৪৬ কিলোমিটার।’
তিনি বলেন, সরকার পতন তো দূরে থাক বিএনপি নিজেদের অস্তিত্ব সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
কাদের বলেন, শিগগিরই মেট্রোরেলের মতিঝিল পর্যন্ত অংশটি চালু হবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেট্রোরেল-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ উন্নয়নের সুবিধা পাবে ঢাকাবাসী।
তিনি বলেন, দেশের জন্য সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির কারণে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন আগের চেয়ে বেড়েছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস কিংবা সহিংস্রতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে জনগণের জানমাল রক্ষায় আওয়ামী লীগ সতর্ক অবস্থান রয়েছে।
আওয়ামী লীগ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেট্রোরেল এবং পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই তা প্রমাণ করেছে। দেশের মানুষ এখন কথা বলতে, কথা শুনতে, অভ্যস্ত নয়, কাজ দেখতে অভ্যস্ত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কথা দিয়ে কথা রাখে সেটা আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে।
কাদের বলেন, বিদেশিদের আমন্ত্রণের বাইরে আওয়ামী লীগ যায়নি গিয়েছে বিএনপি।
জানা যায়, প্রথম ধাপে চালু হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট অংশটি। বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পৌঁছাতে কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে গরমে নাস্তানাবুদ হতে হয় নগরবাসীকে। এখন মিনিট দশেকের মধ্যেই পৌঁছানো যাবে। এক কথায় এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আরেকটি গতির ছোঁয়া লাগবে।
২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পরই নগরবাসী নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের এ প্রকল্পের আওতায় শুরু হয় বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। ৩১টি র্যাম্পসহ এটির মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।
ইতোমধ্যে পুরো প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের। এ অংশে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য রয়েছে ১৫টি র্যাম্প। প্রথম ধাপে ১৩টি র্যাম্প খুলে দেওয়া হবে। সেগুলো দিয়ে যানবাহন ওঠানামা করতে পারবে।
আপনার মতামত লিখুন :