বর্ষায় শরতের আকাশে গ্রীস্মের তাপ | Daily AjKaler Kontho

বর্ষায় শরতের আকাশে গ্রীস্মের তাপ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৩, ৪:১৬ অপরাহ্ন
বর্ষায় শরতের আকাশে গ্রীস্মের তাপ

শাকিল আহমেদ : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রতিটি ঋতুতেই প্রকৃতি বিভিন্ন রুপে সাজে এবং তাদের সৌন্দর্য দিয়ে মুগ্ধ করে বাংলার প্রতিটি মানব হৃদয়কে। কখনো শীতের কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারিদিক, আবার কখনও বৃষ্টি নিয়ে আসে বর্ষাকাল।

আষাঢ় ও শ্রাবণ মিলে হয় বর্ষাকাল। পৃথিবী যখন ধুলাবালিতে পরিপূর্ণ তখন এক পশলা বৃষ্টি সকল ধুলাবালি ও অপরিচ্ছন্নতাকে স্নান করে প্রকৃতিকে দান করে স্নিগ্ধতা। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টি হয়, নদ-নদী, খাল-বিল, পথ-ঘাট পানিতে টইটুম্বর, গাছে গাছে ফোটে কদম, কেয়া, বকুল। আর নদী ও খালবিলে ফোটে শাপলা, পদ্মা। বর্ষার ফলে ফসলের মাঠ হয়ে উঠে উর্বর। গাছে গাছে দেখা যায় নতুন পত্রপল্লব।

বর্ষাকাল বাংলার মানুষের জীবনে নিয়ে আসে সুখ ও আনন্দের বার্তা। বর্ষায় প্রিয়জনের শূন্যতাকে বাড়িয়ে তোলে। এজন্য বর্ষাকে ভালোবেসে কবিরা লিখেছেন বিভিন্ন ধরনের গান, কবিতা ও গল্প।

তাই বর্ষাকে কেন্দ্র করে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের কবিতা;

এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়-
এমন মেঘস্বরে বাদল- ঝরঝরে
তপহীন ঘন তমসায়।।

সে কথা শুনিবে না কেহ আর,
নিভূত নির্জন চারি ধার।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুঃখী,
আকাশে জল ঝরে অনিবার-
জগতে কেহ যেন নাহি আর।।

সমাজ সংসার মিছে সব,মিছে এ জীবন কলরব।

কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয়তমাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন-

‌“যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো, চলে এসো এক-বরষায়”।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বছরে ৬ টি ঋতু দেখা যায় না। বাংলাদেশে এখন প্রধান ৩ টি ঋতু। গরমের সময় অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে তেমন গরম নেই বরং পড়ছে শীত। আবার শীতকালে নেই তেমন শীত, হচ্ছে ঘন ঘন বৃষ্টি। অন্যদিকে বর্ষাকালে নদ-নদীতে নেই পানি ফলে মাঠঘাট ফেঁটে চৌচির। প্রকৃতির সেই সৌন্দর্য এখন আর মানুষের নজর কাড়ে না।

বর্ষাকালে দেখা যাচ্ছে শরতের স্বচ্ছ আকাশ আর গ্রীষ্মের তাপমাত্রা। বর্ষার সময় যেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে দেখা দিচ্ছে গ্রীষ্মের রৌদ্র দাহের মতো প্রচন্ড গরম। বর্ষায় আকাশে ঘন কালো মেঘে ভরে যাওয়ার কথা, সেখানে দেখা দিচ্ছে ঋতুর রানি শরতের আকাশ।

পেঁজা তুলোর মতো মেঘদল বেঁধে ভেসে বেড়াচ্ছে স্বচ্ছ নীল গগনে। সারাদিন রোদের তাপে ঘাসের পানি শুকিয়ে গিয়ে ঘাস শুষ্ক হয়ে যায়। সকাল বেলা সেই শুষ্ক ঘাসের উপর জমে থাকে ফোটা ফোটা শিশির বিন্দু। মাঝে মাঝে অতি অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হয়। প্রকৃতি হয় কোমল, শান্ত-স্নিগ্ধ, উদার। পুকুর ও বিলে হাসে সাদা শাপলা। শরতকালের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ষাকালে দেখা যাচ্ছে।