আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভারতজুড়ে চলছে তিন সপ্তাহের লকডাউন। আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন ঘোষণা করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ভারতের জনগণকে আবারও ঘরে থাকার বার্তা দিলেন মোদি। একই সঙ্গে বলেন, ‘লকডাউন অমান্য করা মানে জীবন নিয়ে খেলা।’
মানুষকে এই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা জিতবই।’
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, পরিকল্পনা ছাড়া আচমকা লকডাউন ঘোষণা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েন মোদি। সাধারণ মানুষও অনেকে অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। সেই সব সমস্যার জন্য প্রথমেই ভারতের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী।
তবে একই সঙ্গে কেন লকডাউন প্রয়োজন, সেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘রোগের নিয়মই হল শুরুতেই প্রতিরোধ করা। সেই কারণেই লকডাউন ঘোষণা হয়েছে। সবাই সেটা মেনে চলুন। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।’
হোম কোয়রান্টিনে আছেন এমন অনেককে নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগে মোদি বলেন, ‘এই ধরনের কিছু অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু এটা বুঝতে হবে, স্বেচ্ছা কোয়রান্টিনে থাকা পরিবারের সদস্যরা দায়িত্বশীল। তারা আক্রান্ত নন, কিন্তু সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকাতেই তারা ঘরবন্দি থাকছেন। তাদের সাহায্য করুন।’
এদিকে লকডাউনের জেরে গৃহহীন, কর্মহীন, অসহায় মানুষদের খাদ্যসঙ্কট দেখা দিয়েছে। মোদি আহ্বান জানান, ‘আশপাশে কেউ অভুক্ত থাকলে, তাকে যতটা সম্ভব সাহায্য করুন। তাদের পারলে খেতে দিন।’
‘মন কি বাতের’ মধ্যেই তিনি কথা বলেন দুই করোনা আক্রান্তের সঙ্গে এবং করোনার চিকিৎসা করছেন এমন দুই চিকিৎসকের সঙ্গে। সবাই প্রধানমন্ত্রীকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রতি মাসের শেষ রবিবার এই রেডিও অনুষ্ঠান করেন মোদি। ভারতের মানুষের প্রতি তিনি নানা বার্তা দেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক আলাদা। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে দেশটি জুড়ে। সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে মোদির এবারের ‘মন কি বাত’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৫ জন। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারতে করোনাভাইরাস রোগী আসল সংখ্যা অনেক বেশি হবে।
আজকালের কন্ঠ /এমএম
আপনার মতামত লিখুন :