" সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন" | Daily AjKaler Kontho

” সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন”


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৫, ২০২৩, ১:২৭ অপরাহ্ন
” সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন”

মো: জাহিদ হাসান, কামারখন্দ উপজেলা : সিরাজগঞ্জের যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে এবার কাঁচা মরিচ চাষাবাদ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। পলিমাটিতে তুলনামূলক কম খরচ ও পরিশ্রমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে তাদের। চরের উৎপাদিত মরিচ আকারে পরিপুষ্ট ও রং ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৪৫৬ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২০৪ মেট্রিক টন। ফলন ও দাম ভালো পেয়ে এ বছর চরের কৃষকরা মরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন।

জানা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলে মৌসুমি মরিচ চাষ বেশি হয়েছে। তবে কাজীপুরের নাটুয়ারপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, তেকানিসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে এ মরিচ চাষ হয় বেশি। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ধু-ধু বালু চরের বিস্তীর্ণ এলাকায় মরিচের চাষ শুরু করে কৃষকরা। পলিমাটির উর্বরতা থাকায় কম খরচে মরিচ চাষে ফলন ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। বর্তমানে ফসলের মাঠে এখন মরিচ উত্তোলনে ব্যস্ত নারী-পুরুষরা।

স্থানীয় বাজার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে আর শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যমুনার চরে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। যমুনার চরে উৎপাদিত কাঁচামরিচ ও শুকনো মরিচ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনতে আসছেন পাইকাররা। প্রতি সপ্তাহে শনি ও বুধবার কাজিপুরের নাটুয়াপাড়া হাট বসে। এই হাট থেকে দেশের বড় বড় কোম্পানির প্রতিনিধিসহ ব্যাপারিরা মরিচ কিনে নিয়ে যান। অনেক ব্যাপারী হাট থেকে মরিচ কিনে চরের তপ্ত বালুর ওপর শুকিয়ে নিয়ে যান।

কাজিপুরের নাটুয়াপাড়া চরের কৃষক জলিল শেখ জানান, কয়েক দফা বন্যার পানি আসা-যাওয়া ও অতিবৃষ্টিপাতের কারণে মরিচ চাষে কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। পরে চরাঞ্চলে মরিচ চাষ শুরু করেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে মরিচের চাষ ভালো হয়েছে। এতে ক্ষতিপুশিয়ে উঠে লাভবান হতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া রোগবালাই না থাকায় এবার মরিচের ফলন বাম্পার হয়েছে। আশা করছি বিঘাপ্রতি ৪০/৫০ মণ কাঁচা মরিচ উঠবে এবং বিঘা প্রতি ১০/১২ মণ শুকনা মরিচও ঘরে উঠবে।

তেকানি চরের কৃষক আয়নাল হক জানান, মরিচ চাষে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আর বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকায়।

চৌহালী চরের মরিচ চাষি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর ৩২ শতক জমিতে মরিচের চাষ করেছি। কাঁচা মরিচ বিক্রি করেও চার মণ শুকনো মরিচ রেখেছেন। তার এই ৩২ শতক মরিচ ক্ষেতে চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩২ হাজার টাকা। শুকনো মরিচ বাজারে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। বর্তমান বাজারে চার মণ মরিচ ৯৬ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে এই চাষি জানান।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে এক বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছি। এরই মধ্যে ২০ মণ কাঁচামরিচ বিক্রি করেছি। আরও চার মণ মরিচ শুকিয়ে রেখেছি। এখন যদি শুকনো মরিচ বিক্রি করি তাহলে প্রায় এক লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সুত্রধর জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৪৫৬ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এ থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২০৪ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখেও ফুটেছে হাসি। কৃষকরা আগামীতে আরও বেশি জমিতে মরিচ চাষে আগ্রহী বলেও জানান এই কর্মকর্তা।