কাজী ইমরান নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল জেলায় বিভিন্ন স্কুল থেকে চুরি হওয়া ৩৯টি ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামালসহ আন্ত:জেলা চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস বিফিং এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোসা. সাদিরা খাতুন
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার মকসেদপুর থানার বাটিকাবাড়ি গ্রামের তৈয়ব আলী শেখের ছেলে মো: শহিদুল ইসলাম (৩০), টেংরাখোলা গ্রামের মো: সোহাগ সরদারের ছেলে মো: রিজু সরদার (১৮), ধোপাকান্দা গ্রামের মৃত মতি মোল্যার ছেলে মো: সোবহান মোল্যা (৩৮), গোপীনাথপুর গ্রামের মজিবর রহমান মোল্যার ছেলে মতিউর রহমান রাসেল (৩৫), উজানিয়া গ্রামের মো: কুদ্দুস মোল্যার ছেলে মো: আরমান মোল্যা (২০) ও মাগুরা জেলার বাটাজোড় গ্রামের মৃত শিবপদ দাস ছেলে নেপাল দাস (৩০)।
বিভিন্ন স্কুল থেকে চুরি হওয়া ৩৯ পি ল্যাপটপ, ১৪টি ল্যাপটপের চার্জার, ৭২টি সিলিং ফ্যান, ৪টি প্রজেক্টর,৩টি প্রিন্টার, ১টি স্ক্যানর, ১৬টি মিনি সাউন্ড বক্স, ২টি কম্পিউটার বক্স, ৩টি কিবোর্ড, ২টি মাউচ, ১টি সেলাহী রেঞ্জ, ৩টি ড্র-ড্রাইভার, ১০টি মোবাইল সিম,নগত ৮১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে পুলিশ সুপার মোসা: সাদিরা খাতুন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
এছাড়া গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত স্বরস্বতী পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ তিনদিন স্কুল বন্ধ থাকায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের জানালার গ্রিল কেটে সরকারের আইসিটি বিভাগ থেকে দেওয়া ১৭টি উন্নত মানের ওয়ালটন ল্যাপটপ, ল্যাপটপের ১৫ টি চার্জার অজ্ঞাতনামা চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়।
এঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২০)। অপরদিকে গত ১৬ মার্চ ২০২৩ নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের ১২৬ নং মালিডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১টি লিনোভো ল্যাপটপ, ১টি হিটাসি প্রজেক্টর,১টি এইচপি লেজার প্রিন্টার, ২টি সাউন্ড বক্স, ১টি এইচপি লেজার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ১২টি বিআরবি সিলিং ফ্যান এবং ১৭ মার্চ সদরের ১২৭ নং চাকই পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২টি ল্যাপটপ, ১টি হিটাসি প্রজেক্টর ও নগদ ১০ হাজার টাকা এবং একই দিনে সদরের হবখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১২টি বিআরবি সিলিং ফ্যান চুরি যায়। এ সব চুরির ঘটনায় সংশ্লিল্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন বাদি হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে জেলা পুলিশের সকল বিভাগের তৎপরতায় গোয়েন্দা পুলিশ ২১ মার্চ একটি সিমের সূত্র ধরে সিম ব্যাবহারকারী গোপালগঞ্জের মকসেদপুর থানার শহিদুল তার সহযোগী রিজু সরদার সনাক্ত করে নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা চুরি কথা স্বীকার করে। চুরির ঘটনায় তাদের সহযোগী মতিউর রহমান রাসেল ও সোবহান মোল্যা চুরির সময় ঘটনাস্থলের আশে পাশে উপস্থিত থেকে পাহারা দেয় এবং চোরাইকৃত মালামাল মতিউর রহমান রাসেল ও মো. সোবহান মোল্যার নিকট বিক্রয় করে মর্মে স্বীকার করে। আসামী শহিদুল ইসলামের স্বীকারোক্তি মোতাবেক চোরাই মালামাল পরিবহনে সাহায্যকারী নেপাল দাসকে (৩০) নড়াইল সদর উপজেলার ঘোড়াখালী মোড় থেকে আটক করা হয়।
পরে তাদের তথ্য মত বিভিন্ন জায়গায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ২২শে মার্চ অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত ৩৯টি ল্যাপটপ, ল্যাপটপের চার্জার ১৪টি, সিলিং ফ্যান ৭২টি, প্রজেক্টর ৪টি, প্রিন্টার ৩টি ,স্ক্যানার ১টি, মিনি সাউন্ড বক্স ১৬টি, কম্পিউটার বক্স ২টি, কিবোর্ড ৩টি ও মাউচ ২টি, ১টি সেলাই রেঞ্জ, ৩টি ড্র-ড্রাইভার, ১০টি মোবাইল সিম, নগদ ৮১ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
এ সময় পুলিশ সুপার মোছা. সাদিরা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দোলন মিয়া, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির ওসি সাজেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা,বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেটট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক কর্মি, সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :