সঞ্জয় দেবনাথ সিনিয়র রিপোর্টার :পটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যালয়ে যোগাদানের তিনদিন পর এনামুল হক নামের এক শিক্ষকের পদায়ন সংশোধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নির্বাচিত মোট ২০৯ জন শিক্ষককে গত ২২ জানুয়ারী বাউফল উপজেলায় পদায়ন করা হয়।
এরমধ্যে এনামুল হক নামের এক শিক্ষককে দক্ষিণ শৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তিনি ২৪ জানুয়ারী ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করে ২৯ জানুয়ারী পর্যন্ত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নিয়মিত পাঠদান করেন। গত ২৩ জানুয়ারী ওই আদেশ সংশোধন করে পুণরায় শিক্ষক এনামুল হককে তাঁতেরকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়।
শৌলা গ্রামের একাধিক অভিভাবক বলেন, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হকের পদায়ন পরিবর্তন করেছেন। এতে দক্ষিণ শৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ শৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিম জাহান লাইজু সাংবাদিকদের বলেন, মামলা জটিলতার কারনে এক শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূণ্য রয়েছে। এছাড়া আমার বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত দুই জন শিক্ষক আমার বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
তারা যোগদান শেষে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ এনামুল হককে তুলে নেয়া হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পছন্দের বিদ্যালয়ে পদায়ন না পাওয়া এক শিক্ষক বলেন, আমার বাড়ি কালাইয়া ইউনিয়নে অথচ ১৫ কিলোমিটার দূরে বগা এলাকার দুর্গম একটি বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। শুনেছি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার পদায়ন বাণিজ্যের কারনে অধিকাংশ শিক্ষক পছন্দের বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে জানার জন্য পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন :