আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : ভারত যাওয়ার আগমুহূর্তে সফর বাতিল করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দুটি সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার বিকালে দিল্লি পৌঁছার কথা ছিল তার। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও দেশটিতে তার সফর স্থগিত করেছেন।
ভারতে ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব বিল পাসের পর এ নিয়ে বিক্ষোভ-উত্তেজনার মাঝে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সফর বাতিল করলেন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ব্যস্ততার কারণে মন্ত্রী এ সফর বাতিল করেছেন। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদ্যাপনে ব্যস্ততা রয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সচিব দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে কাজ বেড়ে যাওয়ায় সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দিল্লি সফরে অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে পাঠানো হতে পারে।
ভারতের লোকসভার পর বুধবার রাতে রাজ্যসভায়ও ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এর জেরে আসাম, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ ক্রমেই সহিংস রূপ নেয়ায় বিভিন্ন স্থানে সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিতর্কিত ওই বিল অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে যাওয়া মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মের লোকজন নাগরিকত্ব পাবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিল্লিতে আজ শুক্রবার ৬ষ্ঠ ভারত মহাসাগর ডায়ালগ ও শনিবার ১১তম দিল্লি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে। দুই সম্মেলনে ইন্দো-আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এ ছাড়া ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের প্রতিমন্ত্রী এবং সিশেলস, মালদ্বীপ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র সচিবরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিলের সঙ্গে নাগরিকত্ব বিলের সম্পর্ক নেই, শেখ হাসিনার শাসনে ধর্মীয় নির্যাতন হয়নি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের ভারত সফর বাতিলের প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আউটলুক ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বৃহস্পতিবার বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের দিল্লি সফর বাতিলের পেছনে পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, ভারত কখনও বলেনি যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, বাংলাদেশে সামরিক শাসন ও বিএনপির আমলে ধর্মীয় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের একদিন পর বাংলাদেশের দু’জন প্রভাবশালী মন্ত্রীর দেশটিতে নির্ধারিত সফর বাতিল ও স্থগিত করার ঘটনায় স্পষ্ট যে, ওই বিল পাসের বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকার এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিলটি পাস করে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এই বিল লোকসভায় পাস করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। তার আমন্ত্রণে শুক্রবার সেখানে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি স্থগিত করেন কামাল। তবে সফর স্থগিতের কোনো কারণ উল্লেখ না করে অপু জানান, এ সফরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কয়েকটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা ছিল।
আজকালের কন্ঠ /এমএ
আপনার মতামত লিখুন :