মধুমতি সেতু চালুর প্রথম ১ মাসে টোল আদায় ১ কোটি ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৯০ টাকা | Daily AjKaler Kontho

মধুমতি সেতু চালুর প্রথম ১ মাসে টোল আদায় ১ কোটি ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৯০ টাকা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১২, ২০২২, ১২:২৩ অপরাহ্ন
মধুমতি সেতু চালুর প্রথম ১ মাসে টোল আদায় ১ কোটি ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৯০ টাকা

কাজী ইমরান (নড়াইল) প্রতিনিধি: দৃষ্টিনন্দন ৬ লেনের মধুমতি সেতু চালুর প্রথম এক মাসে ১ লাখ ৫ হাজার ৪২৫ টি যানবাহন পারপার হয়েছে । এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯০ টাকা।
গত ১০ অক্টোবর সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটি থেকে গাড়ি চলাচল ও টোল আদায় শুরু হয় এ সেতুতে।

গাড়ি চলাচল ও টোল আদায়ের ওই তথ্য (১১ নভেম্বর) রাতে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, টোল আদায় ব্যবস্থাকে এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি। গোপালগঞ্জ সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টোল আদায় করছেন। টোলের কম্পিউটারাইজ রশিদ দেওয়া হচ্ছে। তবে দ্রুত ডিজিটাল পদ্ধতিতে (অটোমেশন) টোল আদায় করা হবে।

গত ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিওকনফারেন্সের মাধ্যমে মধুমতি নদীর কালনা পয়েন্টে মধুমতি সেতুর উদ্বোধন করেন। এটি স্থানীয়দের কাছে ‘কালনা সেতু’ নামে পরিচিত। ওই দিন রাত ১২টার পর থেকে এ সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
মধুমতি সেতুর পূর্ব পাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং পশ্চিম পাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা। টোলপ্লাজাটি গোপালগঞ্জ অংশে স্থাপন করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এটি নিয়ন্ত্রণ করছে।
এ দিকে সেতু চালু হওয়ার আগে ইজিবাইক, সিএনজি ও টেম্পো, তথা তিন চাকার যান কালনা ঘাট থেকে লোহাগড়া ও নড়াইলে যাতায়াত করত। ওই যানগুলো এখন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া মোড় থেকে লোহাগড়া ও নড়াইল যাতায়াত করছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমেছে, সাশ্রয় হয়েছে সময়ের।

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে টোল হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কন্টেইনার বা ভারী মালামাল পরিবহনে সক্ষম যানের টোল ধরা হয়েছে ৫৬৫ টাকা, বড় ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ৪৫০ টাকা, মধ্যম ট্রাক ২২৫ টাকা, বড় বাস ২০৫ টাকা, ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা, পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর ১৩৫ টাকা, মিনিবাস বা কোস্টার ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস বা পিকআপ ৯০ টাকা, সিডান কার ৫৫ টাকা, টেম্পো বা সিএনজি অটোরিকশা ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকা এবং ভ্যান, রিকশা বা বাইসাইকেল ৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নির্ধারিত টোল এ সেতুতে আদায় করা হচ্ছে।

সেতু কতৃপক্ষ জানায়, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাপানি ও বাংলাদেশি ঠিকাদারেরা যৌথভাবে সেতুটি তৈরি করেছেন। সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১০ মিটার।

বাস ড্রাইভার খাইরুল, ট্রাক চালক ঝুনু মজুমদার, পিক আপ চালক মনির, মটর সাইকেল চালক পার্থ মল্লিক ও ইজিবাইক চালক কামরুল শেখ বলেন সেতু চালু হওয়ার আগে নদী পারাপারে বেশ দুর্ভোগ হতো এবং সময় অপচয় হতো। সেতু চালু হওয়ার পর থেকে তারা বেশ সহজে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে এবং সময়ের সাশ্রয় হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, এ রুটে পুরোদমে এখনো গাড়ি চলাচল শুরু হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে মধুমতি সেতুর টোল আদায়ে ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। টোল কালেকশন সিস্টেম কম্পিউটারাইজ করা হবে। তাই এখান থেকে শতভাগ টোল আদায় করা সম্ভব হবে।