ঢাকা মহনগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সম্পাদক পদে সর্বমহলে আলোচনায় বিএম সিরাজ | Daily AjKaler Kontho

ঢাকা মহনগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সম্পাদক পদে সর্বমহলে আলোচনায় বিএম সিরাজ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৮, ২০১৯, ৮:৪৩ অপরাহ্ন
ঢাকা মহনগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সম্পাদক পদে সর্বমহলে আলোচনায় বিএম সিরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএম সিরাজুল ইসলাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মুগদাপাড়ার ৬নং ওয়ার্ড এর নির্বাচিত একজন সফল কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।
বিএম সিরাজুল ইসলাম আশির দশকে ঢাকায় এসে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে অগ্রণী ব্যাংকে চাকুরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। বিএম সিরাজ জন্মগতভাবেই একজন আওয়ামী লীগার। তার গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিশ্বাসী। প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র হয়েও বিএম সিরাজ কিশোর বয়সে বড় ভাইয়ের সাথে বিশ্বনেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনতে নিজ বাড়ি থেকে কোটালিপাড়া গিয়েছেন। তিনি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় মুগদা এলাকায় সক্রিয়ভাবে আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানী হায়েনা ও এদেশীয় একদল নরপিশাচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ছিলো খুবই বিপদজ্জনক। এক কথায় বলা যায়, সেদিন আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা শ্লোগান দেওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন একটি সময়ে বিএম সিরাজ মুগদার অগোছালো আওয়ামী লীগকে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজিবুল হক সরদারের মাধ্যমে সংগঠিত করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালে তিনি মুগদাপাড়ায় সাবেক ৫৩ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯২ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে ৫৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর নতুনভাবে গঠিত ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯৭ইং সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের একজন জনপ্রিয় কাউন্সিলর হিসেবে এলাকাবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন সুনামের সাথে। বিএম সিরাজের জনপ্রিয়তায় ঈষার্ন্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল ও হাইব্রিড নামীয় বিএনপি-জামায়াত এবং ফ্রিডম পার্টির এজেন্টরা তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা মুগদা থানা আওয়ামী লীগকে পঙ্গু করার এক গভীর চক্রান্ত চালাচ্ছেন। বিএম সিরাজ একজন সুদক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার রাজনৈতিক আদর্শ, শৃঙ্খলা, মেধা ও সর্বোপরি কন্ট্রোলিং পাওয়ার অত্যন্ত প্রকট। এ গুণটি সব নেতাদের থাকেনা। যেটা বিএম সিরাজের মাঝে আছে। এবিষয়গুলো তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মেনে নিতে পারছেননা। তারা বিএম সিরাজকে হত্যার পরিকল্পনাও করেছে বহুবার। কাফনের কাপড় পাঠিয়েও তাকে রাজনৈতিক ময়দান ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ঐ চক্রটি। কিছুতেই সিরাজকে তার আদর্শ ও রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরাতে পারেনি ষড়যন্ত্রকারীরা। বিএম সিরাজ সকল ভয়কে জয় করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছেন। মুগদার রাজনীতির মাঠে বিএম সিরাজের বিকল্প শুধু সিরাজই। বিএম সিরাজ শক্ত হাতে সেই আশির দশক থেকে মুগদা আওয়ামী লীগের হাল ধরে আছেন। অনেক চড়াই উৎরাই, মামলা-হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এই সিরাজ। তবুও তিনি তার প্রিয় কর্মী বাহিনীকে বিপদে ফেলে মুগদা এলাকা ছাড়েননি একঘন্টার জন্যও। তার বিশাল কর্মী বাহিনীকে বিপদে ফেলে কোনদিন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আত্মগোপনও করেননি। তিনি এলাকার জনগণ ও তার কর্মী বাহিনীকে নিয়ে সাত্তার, এরশাদ ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তিনি একজন আদর্শবান রাজনীতিবিদ হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধ
ু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে মুগদা এলাকায় বিশাল কর্মী বাহিনী তৈয়ার করেছেন। তার এই কর্মী বাহিনী কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি। তিনি জাতির পিতার আদর্শে গড়ে উঠা মুজিব সৈনিকদের সহায়তায় এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ডে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। এলাকার সকল শ্রেণির পেশাজীবি, শ্রমজীবী মানুষ তার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সন্তুষ্ট। এটাই অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিডদের সহ্য হয়না। এলাকাবাসী হাইব্রিড লালন-পালনকারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও প্রত্যাখান করেছেন। অনুপ্রবেশকারীরা রাজনীতির ময়দানে কোন সুবিধা করতে না পেরে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।
বিএম সিরাজ এলাকাবাসীর ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রিয় কউন্সিলর। তিনি মুগদাবাসীকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। কারণ তিনি মুগদা থেকেই রাজনৈতিকভাবে এই অবস্থানে এসেছেন এবং কাউন্সিলর হয়েছেন। মুগদাবাসীও তাকে খুবই ভালোবাসেন। তাই তিনি মুগদার মানুষগুলোর কল্যাণ চান সবসময়। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি ও কাউন্সিলর হিসেবে মুগদা এলাকার মানুষের শান্তির জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণ, দলীয় নেতা-কর্মী ও মুরুব্বিদের সাথে নিয়ে সকল প্রকার অনাচার, অবিচার ও অসামাজিক কার্যকলাপসহ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন।
এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাবের হোসেন চৌধুরীর দিক-নির্দেশনায় থানা পুলিশকে কঠোর অবস্থানে যেতে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।
একনজরে বিএম সিরাজ কর্তৃক মুগদার উন্নয়নঃ
উত্তর মুগদায় বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপালটি ছিলো বিশাল ঝিল। এই ঝিলের উপরই আজ হাসপাতাল। ঝিলের দক্ষিণে প্রায় তিন বিঘা জমির উপর ক্যাসিনো নামক জুয়ার আসরের নিয়ন্ত্রণকর্তা ছিলেন ভূমিদস্যু আর জুয়ারীরা। মুগদাপাড়া নাগরিক কমিটির সভাপতি হিসেবে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাবের হোসেন চৌধুরীর দিক-নির্দেশনায় সেই ক্যাসিনো ক্লাবটি ভেঙ্গে দিয়ে সেখানে ডিপিডিসির সাব স্টেশন নির্মাণ করে দিয়েছেন বিএম সিরাজ। ঐ ক্লাবটিতে সার্বক্ষণিক মদ, গাঁজা, হেরোইন ও ফেনসিডিলসহ নানাহ নেশাজাত দ্রব্য কেনাবেচা হতো। অপরদিকে হাসপাতালের প্রায় ৫ বিঘা জমির উপর শতশত অবৈধ বস্তি ঘর নির্মাণ করে ভূমিদস্যুরা তা ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনি ঐ হাসপাতালটি উদ্বোধনে আসার আগে বিএম সিরাজ মাননীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে ঐসকল অবৈধ ঘর ভেঙ্গে দিয়েছেন জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে। যেই ঘরগুলো ছিলো মদ-জুয়ার আড্ডা ও অসামাজিক কার্যকলাপের আঁখড়া। এছাড়া হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের রাস্তার সাথে আরো প্রায় তিন বিঘা খাস জমি উদ্ধার করে পানির পাম্প, রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান এ মফিদুল ইসলামের অফিস ও থানা নির্মাণে সহায়তা করেছেন তিনি। বিএম সিরাজ তৎকালীন সময়ে ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ওয়াদা করেছিলেন মুগদা এলাকায় সকল সরকারি সম্পদ উদ্ধার করে জনকল্যাণমুলক কাজে ব্যবহার করবেন, তিনি তাই করেছেন। তারই আলোকে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে উত্তর মুগদা বড়বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন সরকারের প্রায় তিন বিঘা খাস জমি উদ্ধার করে দেশের স্বনামধন্য আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ নির্মাণ করেছেন। যে জায়গাটি দীর্ঘদিন ভূমিদস্যুরা দখলে রেখেছিলো। ভুমিদস্যুরা প্রতারণার মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার সেই জায়গাটিতে বেকার যুবকদের কল্যাণের কথা বলে সেখানে জুয়ার আসর ও মদের আঁখড়া তৈয়ার করেছিলো। বিএম সিরাজ শত বাঁধা সত্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের মূল্যবান ঐ সম্পদ উদ্ধার করে আজ আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের মত একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন বলেই তিনি ভুমিদস্যুদের চক্ষুশুল হয়েছেন। এছাড়াও গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইনের সংস্কার করেছেন। ভাঙাচোরা রাস্তা ও সুয়ারেজ লাইনের মেরামত করেছেন। এখনো রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রতিদিন তার এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চলছে। ডেঙ্গু মশা নিধনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছেন। মুগদা কবরস্থানকে আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ রাতে লাইটিং ব্যবস্থা করেছেন। পুরো মুগদা এলাকাকে তিনি সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছেন। স্থানীয় এমপি জনাব সাবের হোসেন চৌধুরীর মাধ্যমে মুগদার সবক’টি মসজিদকে সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিপক্ষ হিংসায় জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিএম সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে গর্ব করেন। মুগদার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে আছে বিএম সিরাজের কারণেই। তিনি এমনই একজন নেতা, যে নেতার কোন লোভ-লালসা নেই। তিনি কখনো কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননা। কর্মী বান্ধব এ নেতা কোন ভাইয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিজের জীবন উৎস্বর্গ করতেও পিছপা হবেনা বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এমন একজন সৃষ্টিশীল ও সৎ নেতাকে অনুপ্রবেশকারী চক্রটি চাইছে রাজনৈতিক ময়দান থেকে দূরে সরিয়ে দিতে। এ’কাজটি হাসিল করতে পারলেই মুগদা থানা আওয়ামী লীগে হবে বিএনপি-জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি ও হাইব্রিড কাউয়াদের মহা উৎসব এবং মহা মিলন মেলা।
তাই আওয়ামী ঘরনার এলাকাবাসী এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনে করেন মুগদা আওয়ামী লীগ তথা ঢাকার পূর্বাঞ্চল আওয়ামী লীগের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আপনার হাতকে শক্তিশালী করতেই বিএম সিরাজুল ইসলামের মত একজন সাহসী ও ত্যাগী নেতাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা উচিৎ। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রাণের এ দাবি পূরণে আপনার সু-দৃষ্টি আকর্ষণসহ প্রয়োজনে বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আজকালের কন্ঠ /মিজান