নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২৯ শে নভেম্বর শুক্রবার কৃষিবিদ মিলনায়তনে মৎস্যজীবী লীগের জাতীয় সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন সদস্য সচিব এবং সভাপতি পদপ্রার্থী লায়ন শেখ আজগার নস্কর।
২০০৪ সালে মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে সহ সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিবে দায়িত্বে আসা শেখ আজগার বলেন, মৎস্যজীবী লীগকে সহযোগী সংগঠনের স্বীকৃতি দেওয়ায় সারা দেশের নেতা- কর্মীরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সম্মেলন সফল করতে কাজ করে যাচ্ছে। সম্মেলন সফল করতে কেন্দ্রে ৮ টি উপকমিটি এবং সকল বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম প্রয়োজনীয় সকল কাজ শেষ করে এনেছে। সম্মেলনে উপস্হিত হবেন প্রায় ২৫ হাজার কাউন্সিলর, ডেলিগেড ও অতিথি। তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আমাকে কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত করার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্হিতিতে ২০১৭ সালে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করে জেলা পর্যায়ে সফর শুরু করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ফলে, ৬৮ টি সাংগঠনিক জেলায় আমরা আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় পূর্নাংগ এবং বাকী জেলা গুলোতে আহবায়ক কমিটি গঠন করতে সক্ষম হই। দেশের অধিকাংশ উপজেলা/ পৌর কমিটি গঠিত হয় । ২০১৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাননীয় মন্ত্রী, জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি, তৎকালীন কমিটির সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র এমপি কে আহবায়ক এবং আমাকে সহ ৫ জনকে যুগ্ম আহবায়ক ” করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি – ২০১৭ ” অনুমোদন করেন। কিন্তু নানাবিধ প্রতিকুলতায় ঘোষিত সময় সম্মেলন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও সংগঠনটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। ২০১৯ সালে পূনঃরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি পূনগঠন করে আমাকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দিলে সংগঠনটিতে আবার গতি ফিরে আসে। আমরা দৃঢ়তার সাথে যথাসময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময়ের আবেদন করলে তিনি ২৯ শে নভেম্বর ২০১৯ সকাল ১০ টা কৃষিবিদ মিলনায়তন ঢাকায় সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেন। সংগঠনটির আর্থিক সংকট থাকলেও আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে সুদীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন- সংগ্রাম, বিশেষত ১/১১ এর দূঃসময় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনেে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করি। এ সময় অনেক নেতাকর্মী আহত হয়, হামলা মামলার স্বীকার হয়ে সকল আন্দোলনে ভুমিকা রাখেন। দূঃসময় কর্মীদের অনেকেই আর্থিক সহায়তা দিতে হয়েছে। জেলায় সাংগঠনিক সফর, অফিস ভাড়া, টেলিফোন বিল, অন্যান্য খরচ আমরা নিজেরাই বহন করেছি এযাবৎ। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সম্মেলন করে মৎস্যজীবী লীগকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন করায় আমরা কৃতজ্ঞ এবং অভিনন্দন জানাই। এক প্রশ্নের জবাবে শেখ আজগার বলেন, সংগঠনের জন্ম থেকে এখানে কাজ করছি, অন্য সংগঠনে যাওয়ার সুযোগ ছিলো – দূঃসময় নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাইনি, বরং সাধ্যমতো পাশেই থেকেছি। আমার বাবা একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, বাবার রক্তের উত্তারাধিকার হয়ে স্কুল জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে জিয়া – এরশাদ, খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলনেে নেতৃত্ব দিয়েছি। খালেদা জিয়ার মা তৈয়বা বেগম বাদী হয়ে আমি সহ অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। আমরা মোকাবেলা করেছি, কখনো আদর্শের সাথে আপোষ করিনি,। নিজের প্রচেষ্টায় ব্যবসায় সফলতা লাভ করেছি। আশির দশকে গাড়ি- বাড়ির মালিক হয়েছি কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়। তাই, আমি কোন অপ্রচারে কান দেই না। এখন লক্ষ্য একটাই সকলের সহযোগিতা নিয়ে “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটি সফল,স্বার্থক সম্মেলন উপহার দেওয়া”। নেতাকর্মীরা আমাকে ভালবাসে- আস্হা ও বিশ্বাস রাখেন। নেত্রী আমাকে আগামী দায়িত্ব দিলে আস্হা ও বিশ্বাসের সাথে কাজ চালিয়ে যাব। আমি নেত্রীর প্রতি আস্হাশীল , তিনি নিজেই মৎস্যজীবী লীগের আগামী নেতা নির্বাচিত করে দেবেন। আমরা নেত্রীর সিদ্বান্ত মেনেই সবাই সংগঠন করি। বিদায়ী কমিটির দপ্তর সম্পাদক এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন,সংগঠনটিকে কাংখিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংগঠনের বাহির থেকে ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন মৎস্য প্রতিমন্ত্রীকে এনে আমরা ২০১৬ সালে সভাপতির পদে আসীন করি। কিন্তু নেতাকর্মীদের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটেনি, বরং সংগঠনের পুরনো পরীক্ষিত,মেধাবী নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করতে তিনি সচিবালয়ের দালাল বিএনপি জামায়াতের কিছু দূর্নীতিবাজ লোকদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে সংগঠন অভ্যন্তরে উপদলীয় কোন্দলে সৃস্টি করেন এবং অধিকাংশ নির্বাচিত জেলা কমিটি ভেংগে নিজের বলয় তৈরির জন্য বহিরাগত অসাংগঠনিক দূর্নীতিবাজ দিয়ে কমিটি গঠন করেন। দলীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তিনি ও তার অনুসারীরা অফিস না করে প্রতিমন্ত্রীর বাসভনে দলীয় কার্লাযালয় বানিয়ে পুলিশ পাহারায় সভা সমাবেশ শুরু করেন। এতে অসম্মতি জানানোয় মন্ত্রীর বাড়িতে ভাড়াটে লোক দিয়ে পিটানো হয় সাধারণ সম্পাদক বাশার, বিদায়ী সভাপতি সাঈদ, সহ ১৫/২০ জন সিনিয়র নেতাকে। তার সরকারি বাসভবনের নীচে লান্চিত ও হামলার স্বীকার হন শতাধিক নেতাকর্মী। প্রতিমন্ত্রীর বাসভবন পরিনত হয় তদবীর কারক আর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।এবিষয় সাবেক সাধারন সম্পাদক আবুল বাসার বলেন, আমার জীবনে ওনার ( নারায়ণচন্দ্র) মতো দুষ্ট লোক দেখিনি, নারায়ণ বাবু সিস্টের দমন -দুস্টের পালন নীতিতে বিশ্বাসী লোক। ভিন্নমত দমনে তিনি পারদর্শী।
বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক সহ সভাপতি / সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক, ডেপুটি এ্যার্টনি জেনারেল এ্যাড, হারুন অর রশিদ বলেন আমি ২০০৮ সাল থেকে মৎস্যজীবী লীগের সহ সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক কাজে অংশ নিচ্ছি, এবছর অধিকাংশ নেতাকর্মীরা আমাকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে দেখতে চায়। আমি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে এ বিষয় অবহিত করেছি। বিদায়ী সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র সম্পর্কে এ্যাড, হারুন বলেন ৪০ বছর রাজনীতির জীবনে ওনার মতো অসাংগঠনিক ও পরশ্রীকাতর লোক আমি দেখিনি।তিনি কখনো কোন সাংগঠনিক কাজে দলীয় কার্যালয় আসেননি। সংগঠনের বাহির থেকে ওনাকে এনে এভাবে শীর্ষ পদে বসানোটা ভুল ছিল। তিনিআরো বলেন, বিদায়ী কার্যকরী সভাপতি শেখ আজগার সাহেব সংগঠনের দূঃসময় কার্যালয়ের ভাড়াসহ নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন এবং আজগার সাহেবের বাবা একজন শহীদ মুক্তিোদ্ধা। শেখ আজগার বিনয়ী, সদালাপী, রাজপথের সাহসী ও দক্ষ সংগঠক এবং আমরা সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সহকর্মি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে নেতা নির্বাচিত করবেন আমরা তাকেই স্বাগত জানিয়ে নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করব ইনশাআল্লাহ। সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান বলেন, আমি ছিলাম, আছি, থাকবো। কোন বহিরাগতকে সংগঠনের শীর্ষ পদে মানবে না কর্মীরা। সভাপতি পদে শেখ আজগার নস্কর, সাইদুর রহমান, ইসলাম আলী, আবুল বাসার এবং সাধারন সম্পাদক পদে এ্যাড, হারুন অর রশিদ, মোহাম্মদ ইউনুস, হাজী ফিরোজ আহাম্মদ, মোহাম্মদ আলম সহ একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারনসম্পাদক পদে কোন মন্ত্রী/ এম,পি না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি এবং সরাসরি ভোটেই নির্বাচিত হবে এই দুই শীর্ষ পদের নেতৃত্ব। এবিষয় জানতে নারায়ণ চন্দ্র এম,পি’র মোবাইল ফোনে কল দিলে রিসিভ করেন নি ।
আজকালের কন্ঠ /এমএম
আপনার মতামত লিখুন :