চুয়েট প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন আমেরিকান কনক্রিট ইন্সটিটিউট (এসিআই) আয়োজিত কনক্রিট প্রজেক্ট শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গতবছরের মতো এবারও বিজয়ী হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একদল শিক্ষার্থী।
৪ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে চূড়ান্ত ফলাফল এসিআই এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। ১২০টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়ে দ্বিতীয় রানার আপ হিসেবে পুরস্কার জিতে নেয় চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী। ঐ দুই শিক্ষার্থী হলেন মো. আকরাম হোসেন ও অমিত মল্লিক। উভয়েই চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
স্বল্পসময়ে কিভাবে কংক্রিটের শক্তি বা স্ট্রেন্থ পরীক্ষা করা যায় মূলত সেটি নিয়ে গবেষণা করে তারা এ পুরষ্কার লাভ করেন।
আকরাম হোসেন জানান, সাধারণত কংক্রিটের শক্তি বা স্ট্রেন্থ পরীক্ষা করতে কয়েকদিন সময় লেগে যায়। আমরা সেটি না করে কিছু সমীকরণ ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে স্বল্পসময়ের মধ্যে কাছাকাছি একটা মান পেতে পারি। মূলত এটি নিয়েই আমরা কাজ করেছি।
২০২২ সালের এই প্রতিযোগিতাটির অংশগ্রহণের শেষ সময় ছিল ৩১ মে, ২০২২। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্টগুলো হতে ‘ব্লাইন্ড’ পদ্ধতিতে পুরো প্রতিযোগিতার মূল্যায়ন হয়। অর্থাৎ মূল্যায়নের সময় প্রতিযোগীদের নাম ঠিকানা কিছুই জানেন না বিচারকরা।
প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল শিক্ষার্থীরা তদের গবেষণা কর্মের দুটি অনুলিপি পিডিএফ ফরম্যাটে পাঠাবেন। দ্বিতীয় কপিতে শিক্ষার্থী কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা কিছুই উল্লেখ থাকবে না। এরপর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিচারকগণ চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচন করেন।
প্রতিবছরই স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় টানা দ্বিতীয়বাবের মতো বিজয়ীর পুরষ্কার জিতল চুয়েট। চুয়েট থেকে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো দলদুটির মধ্যে একটি দ্বিতীয় রানার আপ হিসেবে বিজয়ী হয়েছে। পুরষ্কার হিসেবে তারা পাবেন একটি আন্তর্জাতিক সনদপত্রসহ ২৫০ মার্কিন ডলার। বিখ্যাত কনক্রিট ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিনের পরবর্তী সংখ্যায় তাদের কাজ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
এই দুই শিক্ষার্থীর উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাদের এ সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে আরো অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি মনে করি৷ আন্তর্জাতিক এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে যেকোনো ধরনের সহযোগিতায় পাশে থাকব।
আজকালের কন্ঠ /আর
আপনার মতামত লিখুন :