ঢাকা ঝকঝকে, আকাশ-বাতাসও ফকফকে | Daily AjKaler Kontho

ঢাকা ঝকঝকে, আকাশ-বাতাসও ফকফকে


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মার্চ ৩০, ২০২০, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
ঢাকা ঝকঝকে, আকাশ-বাতাসও ফকফকে

সারাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে চলছে ১০ দিনের ছুটি। রাস্তায় নেই গাড়ির ঢল। কোথাও যাওয়া তো পরের কথা, বাড়ির নিচে যেতেও দুবার ভাবছেন সবাই। অফিস যাওয়ার তাড়া নেই; নেই সঠিক সময়ে লড়াই করে বাসে যাওয়ার চিন্তা। গার্মেন্টস, দোকানপাট সবই বন্ধ। আপাতত ঘরে বসেই দিন কাটাচ্ছেন কম-বেশি সবাই। তাই ঢাকার রাস্তা-ঘাট এখন বেশ ঝকঝকে। আকাশও পরিষ্কার, নির্মল বাতাস; কমেছে বায়ু দূষণ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচকে (একিউআই) আজ সোমবার ঢাকার বায়ুমান মাত্র ৯৩। এতে বিশ্বের বায়ুমান ইনডেক্সে ২২ নম্বরে নেমে এসেছে ঢাকা। বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই এবং চীনের বেইজিং যথাক্রমে ২২০ ও ১৬০ স্কোর নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ভারতের দিল্লি ১৬০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য সময়ে ঢাকা বায়ুদূষণের মাত্রা ২৫০ থেকে ৩০০ পর্যন্ত থাকে। গত সোমবার ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ১৯৫। পরের দিন মঙ্গলবার ছিল ১৫৭। বৃহস্পতিবারও ছিল বায়ু দূষণের মাত্রা ১৫৭। ঢাকার বায়ু দূষণের পরিমাণ আরো কমবে বলেই মনে করছেন পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।

গত ছয় মাস ধরেই এই সূচকের তালিকায় বেশিরভাগ সময় উপরের দিকের স্থান দখল করে ছিল ঢাকা। সূচক ৩৯১ পর্যন্ত উঠেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ থেকে ১০০ হচ্ছে সহনীয় অবস্থা। ১০০ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল, ১৫০ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০০ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর, ৩০০ থেকে ৫০০ হচ্ছে বিপদজনক অবস্থা। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি সহনীয় অবস্থায় রয়েছে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুস সোবহান বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ছোট-বড় প্রজেক্ট, যানবাহন ও শিল্প কারখানা বন্ধ রয়েছে এখন। সে কারণেই বায়ু দূষণের মাত্রা কমেছে। এগুলোই ঢাকার বায়ু দূষণের মূল উৎস।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ডা. আইনুন নিশাত বলেন, যেসব মাধ্যম থেকে বায়ুদূষণ হতো সেগুলো বন্ধ থাকায় মাত্রা কমে এসেছে। এরপর আমরা যদি আরো বেশি পরিকল্পনামাফিক কাজ করি তাহলে বাতাসের দূষণ আর বাড়বে না। তবে এটাও মনে রাখা প্রয়োজন দেশের প্রতিটি মানুষ যদি সচেতন হন ও নিজেদের স্বার্থেই যদি পরিবেশকে বাঁচাতে চান তাহলে হয়তো দূষণ রোধ করা সত্যিই সম্ভব হবে।