পেঁয়াজের ঝাঁজ এবার সবজিতেও | Daily AjKaler Kontho

পেঁয়াজের ঝাঁজ এবার সবজিতেও


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ৬:১৮ অপরাহ্ন
পেঁয়াজের ঝাঁজ এবার সবজিতেও

নিজস্ব প্রতিনিধি : গত শনিবার থেকে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের ঝাঁজ লেগেছে সব ধরনের সবজিতেও। সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দামই কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আর ঈদের সময় থেকে বেড়ে যাওয়া আদা ও রসুনের দাম এখনো বাড়তিই রয়েছে। মাছের বাজারে স্বস্তি আনা ইলিশের দামও কোথাও কোথাও কিছুটা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ভারত গত সপ্তাহে হঠাৎ করে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য টনপ্রতি ৮৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে যায়। পেঁয়াজের বর্ধিত দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক ডেকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভারত ছাড়াও বিকল্প উৎস হিসেবে আরও কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ত্বরিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) খোলাবাজারে ট্রাকে করে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। তারপরও এখন পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম কমেনি।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ঢাকায় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে। এমনকি একই দিনের বিভিন্ন সময়েও দামের পার্থক্য হচ্ছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে শ্যামবাজারে পেঁয়াজের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যেই ওঠানামা করছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, গতকাল ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম আরও একটু বেশি। তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ছয় হাজার টন পেঁয়াজ বিক্রি হয়। কিন্তু সেখানে টিসিবি দিনে মাত্র পাঁচ টন পেঁয়াজ বিক্রি করছে। সেটাও শুধু ঢাকায়। এই স্বল্প পরিমাণ সাপোর্ট দিয়ে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মনে করেন তিনি।

জানা গেছে, গতকাল খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৭৫-৮০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এদিকে, টিসিবি গত মঙ্গলবার থেকে স্বল্প পরিসরে ৪৫ টাকা কেজি দরে ঢাকা শহরের পাঁচটি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ূন কবির বলেন, আপাতত ঢাকার পাঁচটি জায়গায় ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে এক টন করে পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, পেঁয়াজের ঝাঁজ লেগেছে কাঁচাবাজারের অন্যান্য সবজিতেও। গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি এখন বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহও বেশ বেড়েছে। তারপরও সবজির দাম কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে।

গতকাল বাজারভেদে শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া মুলা বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এছাড়া, প্রতিকেজি পটোল ৪০ থেকে ৫০, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০, উস্তে ৬০ থেকে ৭০, করলা ৫০ থেকে ৬০, কাঁকরোল ৪০ থেকে ৫০, বেগুন ৬০ থেকে ৮০, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০, গাজর ৭০ থেকে ৮০, হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ ও দেশি শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বাজারে আগের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে রসুন ও আদা। দেশি রসুন প্রতিকেজি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকা কেজি, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছের কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ইলিশ মাছ ব্যবসায়ী কামাল বলেন, ইলিশের সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তাই দাম আগের থেকে একটু বেড়েছে। তবে অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশের দাম এখনো কম বলে জানান তিনি।

এছাড়া প্রতিকেজি রুই ও কাতলা ২০০ থেকে ৪০০, মৃগেল ২০০ থেকে ২৫০, বাইন (বড়) ৫০০ থেকে ৬০০, কাচকি মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০, চিংড়ি (হরিনা) ৪০০ থেকে ৫০০, বাগদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, গলদা ৫০০ থেকে ৭০০, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৫০, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৪০, কই মাছ ১৫০ থেকে ৩০০ ও শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে সব রকমের মাংসের দাম। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০, লাল লেয়ার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০, গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৫৮০, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের লাল ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫, দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়, আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।