
নাটোরের গুরুদাসপুরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম দোলনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মোছা. সাথী খাতুন (৩৫) নামের ওই নারী গুরুদাসপুর থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত ওই অভিযোগ দেন।
তিনি উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর থেকে সাথী খাতুন তার বাবা-মায়ের বাড়িতে বসবাস করছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিধবা ভাতা ও উপবৃত্তির টাকা একই মোবাইল ফোনের সিমে নিবন্ধন করা এবং আলাদা সিমে টাকা পাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে তিনি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলনের বাড়িতে যান।
অভিযোগে সাথী খাতুন উল্লেখ করেন, কথাবার্তার একপর্যায়ে চেয়ারম্যান তাকে জানান, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে ‘কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি’ তাদের বাড়িতে এসেছেন। চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশেই আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি হওয়ায় তিনি সেখানে গিয়ে মুক্তির সঙ্গে দেখা করতে চান। বাড়ির প্রবেশগেট খোলা থাকায় তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলনও তার পিছু নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বাড়ির ভেতরে কাউকে দেখতে না পেয়ে সাথী খাতুন মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চেয়ারম্যান তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং খাটের ওপর ফেলে তার পরনের পোশাক খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
সাথী খাতুনের অভিযোগ, তিনি ডাক-চিৎকার করলে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে তিনি গুরুদাসপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলনকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :