
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বছরের পর বছর কষ্ট করে সঞ্চয় করা টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কিংশুক সমবায় বিকাশ কেন্দ্রের অসংখ্য সদস্য। অভিযোগের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও বড় প্রশ্ন—সদস্যদের কাছে ৩ কোটি টাকার বেশি দায় থাকলেও সেই অর্থের বর্তমান অবস্থান কোথায়?
প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে রায়পুরের কিংশুক কার্যালয় বন্ধ থাকায় সদস্যদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। টাকা ফেরতের আশায় অনেকে অফিসে এসে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে রায়পুরে কার্যক্রম শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যসহ অনেকে ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে এখানে টাকা জমা রাখেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা তুলতে গিয়ে তারা নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। কারও চিকিৎসা, কারও সন্তানের পড়াশোনা, আবার কারও মেয়ের বিয়ে কিংবা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে টাকা প্রয়োজন হলেও তা ফেরত না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
৩ কোটি টাকার বেশি দায়—কোথায় সেই টাকা?
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারের বক্তব্য অনুযায়ী, সদস্যদের কাছে কিংশুকের ৩ কোটি টাকারও বেশি দায় রয়েছে। তবে কতজন সদস্যের কত টাকা পাওনা, প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্তমানে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে এবং সদস্যদের পাওনা পরিশোধের পরিকল্পনা কী—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে রায়পুর শাখার ম্যানেজার বাহার সাহেবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। একইভাবে হেড অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।
সমবায় অফিসও বলছে—বিষয়টি জানা নেই
বিষয়টি নিয়ে রায়পুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি আগের স্টাফরা এ বিষয়ে জানতেন বলে উল্লেখ করে খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
সদস্যদের প্রশ্ন, জবাব দেবে কে?
দীর্ঘদিন অফিস বন্ধ, কোটি টাকার বেশি দায় এবং সদস্যদের সঞ্চয় ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে কিংশুকের রায়পুর কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী সদস্যদের দাবি, তারা কোনো দয়া বা অনুদান চান না; তারা চান বছরের পর বছর কষ্ট করে জমানো নিজেদের টাকা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে কিংশুকের আর্থিক হিসাব, সম্পদ ও সদস্যদের মোট পাওনা নিরূপণ করে টাকা ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা নিক।
এখন রায়পুরের ভুক্তভোগী সদস্যদের একটাই প্রশ্ন—
৩ কোটি টাকার বেশি দায়ের হিসাব কোথায়, আর তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা মিলবে কবে?
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :