
কুড়িগ্রামে ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন ভুটানের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল।
বুধবার বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা সেতুর পূর্ব পাশে মাধবরাম মৌজায় প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন তারা।
ভুটানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জিএমসিএ-এর আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত বিষয়ক উপপরিচালক কালডেন দর্জি, সহযোগী পরিচালক নিম লাম এবং রয়্যাল ভুটানিজ দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর (বাণিজ্য) দাওয়া শেরিং। এ সময় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।বেজার কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ভুটানের প্রতিনিধিরা প্রকল্পটি নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে বুধবার সকালে ভুটানের প্রতিনিধি দলটি চিলমারী নৌবন্দর এবং পরে সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করে। মূলত প্রস্তাবিত ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে চিলমারী নৌবন্দর ও সোনাহাট স্থলবন্দরের যোগাযোগব্যবস্থা, দূরত্ব ও সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতেই তারা কুড়িগ্রামে আসেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ২৮ মার্চ ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের বাংলাদেশ সফরকালে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে কুড়িগ্রামে ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ২৮ মার্চ ভুটানের রাজা নিজেই কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
কুড়িগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ২১৯ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৮৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রস্তাবিত এ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :