
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৭ নম্বর হাজিরহাট ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ আতিক উল্লাহ মৌলভি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানি জমে সড়কটি পরিণত হয় জলাবদ্ধ খানাখন্দে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এবার ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ হিসেবে কাদাপানিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদাপানির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার আশ্বাস পেয়েও সড়কের অবস্থা পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই তারা সড়কের কাদাপানিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, “এটি মানুষের চলাচলের রাস্তা, কিন্তু বর্তমানে দেখলে মনে হয় ধানের জমি। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে ডুবে যায়। শিশু ও বয়স্কদের চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তারা আরও বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে নয়, আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা কর্তৃপক্ষের নজরে আনতেই প্রতীকীভাবে ধানের চারা রোপণ করেছি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক—এটাই আমাদের দাবি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কাদাপানি ও গর্তের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত আতিক উল্লাহ মৌলভি সড়কটি সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সড়কটির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাদের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে এবং দ্রুত সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :