
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৮ নম্বর চরবংশী ইউনিয়নের হাজিমারা এলাকায় অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন বন্ধে বারবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না এ কার্যক্রম। প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই সুযোগ বুঝে ফের ড্রেজার চালু করে বালু উত্তোলন শুরু করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বিষয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ বিনষ্ট করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু উত্তোলনকারীরা।
সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট হাজিমারা এলাকায় অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান কাউছারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনা করে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বারবার অভিযান পরিচালনার পরও যদি কিছুদিন পর আবার ড্রেজার চালু হয়, তাহলে এর স্থায়ী সমাধান কোথায়? তাদের দাবি, শুধু ড্রেজার ও পাইপ বিনষ্ট করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অভিযান-পরবর্তী সময়েও নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি বাড়াতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা, সংযোগ খাল, কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে নদীর তীর ও তলদেশের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।
এলাকাবাসীর দাবি, হাজিমারা ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
তাদের প্রত্যাশা—সাময়িকভাবে ড্রেজার বন্ধ নয়, মেঘনার তীর ও সংযোগ খাল রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :