
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সিনিয়র শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তায় হাঁটার সময় শরীরে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এমবিএ (২০২৩-২৪) সেশনের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিহারুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি নিকেতন এলাকায় আইসিই (ICE) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী অধীর কুণ্ড ও মৃত্তিকা দাসকে পরিসংখ্যান (STAT) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (১৬তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মোহিদুল ইসলাম রিন্তু এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী অপদস্থ করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা জানতে গেলে অভিযুক্ত মোহিদুল ইসলাম রিন্তু নিহারুল ইসলামের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং তার সঙ্গে থাকা অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত অয়ন, ফাহিদ উদ্দিন আরাফাতসহ আরও কয়েকজন নিহারুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় নিহারুল ইসলাম শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোহিদুল ইসলাম রিন্তু। তিনি বলেন, “ঘটনার দিন শান্তি নিকেতন এলাকায় অসাবধানতাবশত আইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী অধীর কুণ্ডের সঙ্গে আমার ধাক্কা লাগে। বিষয়টি নিয়ে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলেও পরে অর্থনীতি বিভাগের অয়ন ভাই এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন এবং আমরা সেখান থেকে চলে যাই।
তিনি আরও দাবি করেন, কিছুক্ষণ পর আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় পেছন থেকে কয়েকজন আমাকে এবং আমার সঙ্গে থাকা অয়ন ভাইকে মারধর করেন। এতে অয়ন ভাইয়ের নাক ফেটে যায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :